তাকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়নি। এমনকি আয়ারল্যান্ড সফরের দলেও রাখা হয়নি। বলা হয়েছে, তিনি ম্যাচ খেলার মতো ফিট নন।
বিশ্বকাপ দল ঘোষণার দুই দিনের মাথায় নিজেকে অনেকটাই প্রমাণ করে ফেললেন তাসকিন আহমেদ। বিকেএসপিতে রূপগঞ্জের হয়ে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। তার এই অসাধারণ বোলিংয়ে ভর করে প্রাইম দোলেশ্বরকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো রূপগঞ্জ। দিনের অন্য ম্যাচে মোহামেডানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। সুপার লিগে ওঠার পর এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচেই হারলো মোহামেডান।
নির্বাচকরা বলেছেন, আয়ারল্যান্ড সফরে কেউ ভালো করলে বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা হতে পারে। সে অর্থে দেখলে তাসকিনের জন্য এই দুয়ারটাও খোলা রাখা হয়নি। কারণ তাকে আয়াল্যান্ড সফরের দলেও রাখা হয়নি। বিশ্বকাপের সব দুয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেঁদেই ফেলেছিলেন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে। তবে বলেছিলেন, তিনি তার কাজ করে যাবেন। গতকাল সেই কাজটাই করলেন।
আগে ব্যাট করা প্রাইম দোলেশ্বরকে ২০৫ রানে অলআউট করায় নেতৃত্ব দিলেন। ৯ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সেই সাথে মোহাম্মদ শহীদ নেন ৩ উইকেট। ফলে সৈকত আলীর ৭২ রান খুব একটা কাজে দেয়নি। সৈকত আলী ও সাইফ হাসানের জমে ওঠা জুটির দুই জনকেই ফিরিয়েছেন তাসকিন।
২০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বিনা রানেই প্রথম উইকেট হারিয়েছিল রূপগঞ্জ। কিন্তু ধাক্কাটা টের পেতে দেননি শাহরিয়ার নাফীস। আরেক ওপেনার মেহেদী মারুফকে নিয়ে ১০০ রানের জুটি করেন। এরপর আসিফ আহমেদ রাতুলের সাথে ৫১ রানের একটা জুটি করেন নাফীস। রাতুল ১৭ রান করে ফেরেন। আর অধিনায়ক নাঈম ইসলাম ৩২ রান করে শাহরিয়ার নাফীসকে সঙ্গ দেন। নাফীস শেষ পর্যন্ত ১১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দিনের অন্য ম্যাচে সামান্য রানেই আত্মসমর্পণ করে মোহামেডান। তানভির হায়দার ও খালেদ আহমেদের বোলিংয়ের সামনে ১৫৯ রানে অলআউট হয় মোহামেডান। একমাত্র তুষার ইমরান ৫৬ রান করে যা একটু চেষ্টা করেছিলেন।
এই সামান্য রান তাড়া করতে গিয়েও ১৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল শেখ জামাল। কিন্তু নুরুল হাসান সোহান ৮৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে উদ্ধার করেন দলকে। সাথে ইমতিয়াজ হোসেন খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম দোলেশ্বর—লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ
প্রাইম দোলেশ্বর: ৪৫ ওভারে ২০৫/১০ (সৈকত আলী ৭২, সাইফ ৩৭, তাইবুর ২৭, মাহমুদুল ২৫*; তাসকিন ৪/৫৪, শহীদ ৩/৩৫, ধাওয়ান ২/৩২)।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ৪৪.২ ওভারে ২০৮/৩ (শাহরিয়ার নাফীস ১১৩*, মেহেদী মারুফ ৪১, নাঈম ৩২*)।
ফল: লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফীস
মোহামেডান—শেখ জামাল
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৪৪.৪ ওভারে ১৫৯/১০ (তুষার ইমরান ৫৬, লিটন ২৬, আশরাফুল ২১; তানভির ৪/১৬, খালেদ ২/৩২)।
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: ৩৩.৩ ওভারে ১৬৩/৩ (নুরুল হাসান ৮৩*, ইমতিয়াজ ৫৪)।
ফল: শেখ জামাল ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নুরুল হাসান সোহান
