সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর পরিবারের মালিকানাধীন গাড়িচাপায় নিহত সেলিম ব্যাপারীর পরিবার জানিয়েছে, এমপির পক্ষ থেকে এককালীন ২০ লাখ টাকা ও মাসে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার আশ্বাসে মামলা প্রত্যাহারে রাজি হয়েছেন তারা। পাঁচ দিন আগের ওই দুর্ঘটনায় নিহত সেলিম ব্যাপারীর (৫৫) বোনের স্বামী আবদুল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেলিমের স্ত্রী চায়না ব্যাপারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এমপি সাহেব।’
আবদুল আলিম বলছেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর ডিওএইচএসে নাওয়ার প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে ওই আপস বৈঠক হয়। সেলিম ব্যাপারীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এমপি একরামুল করিমের পক্ষে কয়েকজন সেখানে ছিলেন। এমপির পক্ষে যারা এসেছিলেন, তারা আমাদের ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে এমপি সাহেবের সাথেও আমরা দেখা করেছি। ওই মামলাটি এখন আমরা তুলে নেব। সেলিম ব্যাপারী দুই যুগের বেশি সময় নাওয়ার প্রোপার্টিজের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। গত ১৯ জুন রাতে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি নিহত হন। ওই রাতেই তার মেয়ের জামাই আরিফ ভূঁইয়া কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই গাড়ির মালিক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলী। এই সাংসদপত্নী নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। দু’জন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সাংসদপুত্র শাবাব চৌধুরী। নাওয়ার প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ফোন করে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। তিনি চান, নিহতের পরিবারের পাশে থাকার বিনিময়ে তারা কাফরুল থানায় করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবে। পরে এমপি সাহেব আমার অফিসে লোক পাঠিয়েছিলেন সমঝোতার জন্য। সেলিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এ কারণে তার পরিবারের জন্য ৩০ লাখ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়ার প্রস্তাব সাংসদকে দিয়েছিলেন বলে জানান ইমরান।
সেলিম ব্যাপারীর পরিবার আপসে রাজি হওয়ায় এখন মামলার ভবিষ্যৎ কী হবে- এই প্রশ্নে কাফরুল থানার ওসি সিকদার মোহাম্মদ শামিম সাংবাদিকদের বলেন, আপসের বিষয়ে এখনও তাদের কিছু জানানো হয়নি।
ইত্তেফাক/এমআই
