ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের সদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে ব্যতিক্রর্মী ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব কক্ষের সুবিধা নিয়ে ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আরো মনোযোগী হবেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠদান চালিয়ে যেতে পারবেন।
সূত্র জানায়, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্ষটি স্থাপন করা হয়। ৪১০ বর্গফুটের বিশেষ এই কক্ষটি বিভিন্ন আসবাবপত্র দিয়ে সুসজ্জিত করে তুলা হয়েছে। যার সুবিধা ভোগ করছে বিদ্যালয়ের প্রায় ৭শ ছাত্রী। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দয়ামীর সদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে আসবাবপত্রসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সাজিয়ে-গুছিয়ে ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ রুমটি প্রস্তুত করা হয়েছে। দেয়ালে সাঁটানো রয়েছে বিভিন্ন মনীষির ছবি। রুমের একপাশে রয়েছে পড়ার চেয়ার-টেবিল এবং অন্যপাশে বসার জন্য সোফা। দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে একটি ক্যাবিনেট যেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। রুমের ভেতরে রয়েছে একটি ওয়াশরুম। এর পাশেই রয়েছে পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ, যেখানে অসুস্থতাজনিত কারণে ছাত্রীদের বিশ্রামের জন্য একটি খাটও রাখা রয়েছে। ছাত্রীদের ‘বিশেষ সময়ে’ ব্যবহার করার জন্য ন্যাপকিন প্যাডও রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাভলী বেগম ও তাহমিনা আক্তার বলেন, আমাদের ফ্যাসিলিটির জন্য নির্মিত কক্ষটি খুব সুন্দর। কক্ষটি ব্যবহার করে আমরা খুবই স্বস্তি ও আনন্দ বোধ করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ দুলাল মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে ছাত্রীদের জন্য এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ কক্ষ স্থাপনের উদ্যোক্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের মেয়েরা বিদ্যালয়ে গিয়ে যেন কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে সেই চিন্তা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমার জানা মতে, বাংলাদেশের আর কোনো বিদ্যালয়ে এমন ব্যবস্থা নেই। দয়ামীর সদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘গার্লস ফ্যাসিলিটিজ’ বাস্তবায়নের পর উপজেলার আরো ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
