নূপুরের নিক্বণে নৃত্যের ছন্দে মুখর হয়ে উঠেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডল। ‘রঙ্গশ্রী’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী ভরতনাট্যম পরিবেশনার আয়োজন করেছে নৃত্য সংগঠন কল্পতরু। শাস্ত্রীয় নৃত্যের ছন্দোবদ্ধ উপস্থাপনা উপভোগ করলেন দর্শকরা। নৃত্য সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পমাধ্যম। শরীরীশৈলীর মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে নাড়া দেয়। প্রকাশ করে নিজস্ব শিল্প-ভাষা।
ভারতীয় নৃত্যধারার সেই প্রাচীন নৃত্যরূপকেই এখনকার শিল্পীরা তুলে ধরলেন। ভরতনাট্যম নাচের তালে, লয়ে, শরীরী মুদ্রার সমন্বিত শৈল্পিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতা ছড়ালেন নৃত্য শিল্পী অমিত চৌধুরী ও অর্থি আহমেদ। শিল্পী অমিত চৌধুরী শুরুতে পরিবেশন করেন আল্লারিপু। এটি ভরতনাট্যম পরিবেশনার প্রথম ধাপ। রূপকতালে সাত মাত্রার তালের সঙ্গে নিজের পরিবেশনা শেষ করেন তিনি। এরপর তিনি হিন্দু অবতার নৃসিংহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পরিবেশন করেন নরসিমহা কৌতুভাম। এরপর তার পরিবেশনা ছিল ভ্রম। একে একে আরও পরিবেশন করেন শিবপদ, কীর্তনাম, থিললানা। দিনের দ্বিতীয় ও শেষ পরিবেশনা ছিল অর্থি আহমেদের। তিনি উপস্থাপন করেন দেবনামা। নৃত্যের নানা ছন্দে দেবতার প্রতি নিজের অর্ঘ্য পরিবেশন করেন শিল্পী। আজ সোমবার উত্সবের শেষ দিনে থাকছে কল্পতরুর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা।
এ ছাড়া অর্থি আহমেদ পরিবেশন করেন দেবনামা। গতকাল প্রথম দিনের আয়োজনে ছিল একক ভরতনাট্যম পরিবেশনা। আজ দ্বিতীয় দিনে থাকছে কল্পতরুর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। এর আগে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য নাসরীন আহমেদ, নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহমেদুল কবীর, ভারতের দুই বিখ্যাত নৃত্য সমালোচক সুনীল কোঠারি এবং লীলা ভেঙ্কটরমন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মনিপুরি নৃত্যের গুরু কলাবতী দেবী ও কল্পতরুর আর্টিস্টিক ডিরেক্টর লুবনা মরিয়ম।
ইত্তেফাক/কেকে
