জমজমাট চড়ক পূজা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫৫

বড়শিতে গাঁথা জলজ্যান্ত মানুষকে চড়কে ঝুলিয়ে প্রায় ২৫ ফুট শূন্যে ঘুরাতে ঘুরাতে সন্ন্যাসীরা ছুঁড়ে দিচ্ছেন বাতাসা আর কলা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এই দৃশ্য দেখতে এলাকার কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়েছিলেন ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের পুরুকায়স্থ পাড়া গ্রামের চন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। শিব পূজারই অংশ এই চড়ক উত্সব বিভিন্ন বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

জানা গেছে, গ্রামের বাটুল মালাকারের পুত্র রন মালাকার প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করেছেন এই চড়ক পূজার। এই পূজার মূল আকর্ষণ কয়েকজন সন্ন্যাসী বড়শি বিদ্ধ হয়ে শূন্যে ঘোরা। স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে চলে আসছে এ চড়ক পূজা। আর এ পূজাকে ঘিরে স্থানীয় বিদ্যালয়ের পাশের মাঠে বসে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য লোকজ মেলা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেলের মধ্যে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুরো স্কুল মাঠ। চারদিকে সাজ-সাজ রব। পুরো এলাকা জুড়ে উত্সবের আমেজ। বিকেল ৫ টার দিকে কয়েকজন সন্ন্যাসী পার্শ্ববর্তী পুকুরে স্নান করেন। এরপর ৬ জন সন্ন্যাসী মাটির কলসে পানি ভরে মাথায় নিয়ে আসেন তাদের চড়ক গাছের কাছে। সাড়ে ৫টার দিকে সন্ন্যাসীদের পিঠে দুটি বড়শি বিদ্ধ করা হয়। এ সময় স্মরণ করা হয় মহাদেব শিব ঠাকুরকে। এরপর সন্ন্যাসীদের ১০-১৫ জন পুরুষ ধরাধরি করে ঝুলিয়ে দেন চড়ক গাছে। গাছের অপর প্রান্তে থাকা কপিকলের বাঁশ জোরে-জোরে ঘোরাতে থাকেন ২০-২৫জন যুবক। চড়ক গাছে লটকে দেওয়ার সাথে সাথে কিছু নারী তাদের শিশু সন্তানকে তুলে দেন সন্ন্যাসীদের হাতে। শিশুদের নিয়েই শূন্যে ঘুরতে থাকেন সন্ন্যাসীরা, আর এ অবস্থায় ছিটিয়ে দেওয়া হয় বাতাসা আর কলা।

এভাবেই দীর্ঘক্ষণ শূন্যে ঘুরে নেমে আসেন সন্ন্যাসীরা। তারা জানান, সবাই চড়ক গাছে উঠতে পারে না। এতে সাহস লাগে। শিব ঠাকুরের সন্তুষ্টির জন্যই তারা প্রতি বছর চড়ক গাছে চড়ে থাকেন। শরীরে বড়শি বিদ্ধ হওয়ার ফলে বড় ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি না হলেও সামান্য রক্ত বের হয়। কিন্তু এর জন্য কোনো ওষুধ লাগে না। চড়ক গাছ থেকে নামিয়ে গাছের গোড়ায় থাকা সিঁদুর টিপে দিলেই হয়। তারা পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই মহাদেবের ভক্ত এবং এ কাজ করে আসছেন।

পূজার আয়োজকরা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত আমরা এ পূজার অয়োজন করছি। চড়ক পূজা মূলত শিব পূজারই অংশ। নানা আনুষ্ঠানিকতায় তা সম্পন্ন করা হয়। এদিকে মেলায় দোকান নিয়ে আসা তাহির আলী, বকুল দাসসহ কয়েকজন জানান, বিভিন্ন রকমের পসরার বিকিনিকি ভালই হচ্ছে।