রমজান মাস আসার আরো কিছুদিন বাকি থাকলেও চট্টগ্রামে মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত কিছুদিন ধরে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলে আসছে বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। দেশি ও পোল্ট্রি মুরগির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও খাসির মাংসের দাম বাড়তির দিকে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। প্রায় সব ধরনের সবজির দামই ২ থেকে ৪ টাকা করে বেড়েছে।
বরাবরের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় চিনি, ছোলা, তেলসহ রমজানের কোনো আইটেমের দামই বাড়বে না। তবে প্রতিবারই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এসব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। এবারও বাড়তি দামের চাপে নিম্নআয়ের লোকজনকে হিমশিম খেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের যে কোনো তত্পরতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন সতর্ক করে দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, রমজানে সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা তাকে জানিয়েছেন। আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়বে না বলে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন। সভায় রমজানে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। পচা-বাসি ইফতারি, পোড়া তেল ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়। দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতা রোধে মজুদ, ভেজাল খাদ্য ও কালোবাজারি ঠেকাতে তথ্যকেন্দ্র চালু করার ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। রমজান মাসে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার অনুরোধ করেছেন ক্যাব সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।
গতকাল নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ সব ধরনের পণ্যের দামই বাড়তির দিকে। প্রতি কেজি ইলিশের দাম ১২০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা, কাতল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, রূপচাঁদা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, নাইলেটিকা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পোল্ট্রি মুরগি ১৭০ টাকা, দেশি মুরগি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা। সবজির মধ্যে বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
