পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ক্লাবগঞ্জ এলাকায় ১২ দিনের শিশু সামিউল আলমকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আপন মামী নীলুফা বেগমকে (২৪) জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২৬ জুন) দেবীগঞ্জ আমলী আদালতের বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন নীলুফা। এরপর আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশুদের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা না থাকায় মঙ্গলবার সকালে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
গত সোমবার (২৫ জুন) দুপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে মামী নীলুফা শিশু সামিউলকে পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ নীলুফা বেগমকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নীলফামারী সদরের গোড়গ্রাম মাঝপাড়া এলাকার মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ক্লাবগঞ্জ এলাকার শাহিদা আক্তারের বিয়ে হয়। মাস খানেক আগে অন্ত:সত্বা শাহিদা প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে বাবার বাড়িতে আসেন। সন্তান প্রসবের জন্য বাবার বাড়ি আসার পর থেকেই শাহিদার সঙ্গে তার বড় ভাই আব্দুস সামাদের স্ত্রী নীলুফা বেগমের ছোটখাট বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগে থাকতো।
গত ১৪ জুন ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন শহিদা আক্তার। এরমধ্যে নবজাতকের নামও রাখা হয় সামিউল আলম। তবে সন্তান জন্মের পর তাদের মধ্যে ঝগড়া আরও বেড়ে যায়। গত সোমবার দুপুরে শিশুটিকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে মা শহিদা আক্তার কান্নাকাটি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ১২ দিনের শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা শাহিদা আক্তার বাদী হয়ে নীলুফা বেগমকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মঙ্গলবার দেবীগঞ্জ আমলী আদালত-২ এর বিচারক মো. মাসুদুর রহমানের আদালতে শিশু হত্যায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন শিশুটির মামী নীলুফা বেগম। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. শাহা আলম জানান, ‘শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে মা শহিদা আক্তার বাদী হয়ে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী নীলুফা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পরপরই আমরা আসামি নীলুফা বেগমকে গ্রেফতার করি। নীলুফা বেগম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
