‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে আনতে চাই তৃণমূলে গবেষণা’

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৬

নওগাঁ জেলার গণহত্যার বিস্তারিত ইতিহাস তুলে আনা হয়েছে ‘গণহত্যা ১৯৭১ নওগাঁ’ গ্রন্থে। যাতে ৬৭টি বধ্যভূমির তথ্য, স্থানের নাম, শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। নওগাঁ জেলার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের উদ্যোগে মোস্তফা-আল-মেহমুদ রাসেলের গবেষণা ও সম্পাদনায় বইটি প্রকাশ করেছে একুশে পরিষদ, নওগাঁ। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী, বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও পিআইবির চেয়ারম্যান আবেদ খান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, লেখক গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ওহিদুর রহমান, অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হাশেম আলী, অধ্যাপক নুরুল হক, খন্দকার আসাদুর রহমান গোলাপ। সভাপতিত্ব করেন একুশে পরিষদ, নওগাঁর সভাপতি ডি এম আব্দুল বারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইটির সম্পাদক মোস্তফা-আল-মেহমুদ রাসেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি পরিষদ নওগাঁর সহ-সভাপতি রফিকুদ্দৌলা রাব্বি।

কে এম খালিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে আনতে তৃণমূলের গবেষণা সবচেয়ে জরুরি। সেই কাজটিই করেছে একুশে পরিষদ, নওগাঁ। নওগাঁর গণহত্যার ইতিহাসকে দৃষ্টান্ত ধরে সবাই যদি কাজ করে তাহলে একদিন মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস আমরা সংরক্ষণ করতে পারবো।

সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি সংরক্ষণে সরকার ইতিমধ্যেই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। শুধু সরকার নয় ব্যক্তি সাংগঠনিকভাবেও সবাইকেই বধ্যভূমি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আবেদ খান বলেন, একুশে পরিষদ, নওগাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থটি তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণায় অনুপ্রাণিত করবে।

মফিদুল হক বলেন, একুশে পরিষদ, নওগাঁর নেতৃত্বে যে কাজ হয়েছে তার ব্যাপ্তি বিশাল। যা এক দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ হয়ে রইবে মুক্তিযুদ্ধের তরুণ গবেষকদের কাছে।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। যা অঞ্চলভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় নতুন উপাদান যোগ করবে।

ডি এম আব্দুল বারী বলেন, একুশে পরিষদ, নওগাঁ নানামুখী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমাদের প্রেরণা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু এবং চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য।

বইটির সম্পাদক মোস্তফা-আল-মেহমুদ রাসেল বলেন, প্রায় দশ বছরের শ্রমের ফসল বইটির কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি অনেক তথ্য এখনও অজানা। গবেষণা করলে সময় দিলে আরও অজানা তথ্য উঠে আসবে। গ্রামের সাধারণ মানুষ যে বীরত্ব নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী যে নৃশংসতা চালিয়েছে তার খুব সামান্যই তুলে আনা গেছে বইটিতে। আশাকরি, আগামীতে আরো তথ্য নিয়ে বইটির দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করতে পারবো।