যাত্রী হয়রানির অভিযোগে শাহজালাল বিমানবন্দরে দুদকের অভিযান

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৮, ২০:৩৪
হযরত শাহজালাল (রা:) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যাত্রী হয়রানির অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনর (দুদক)। 
 
বুধবার দুদকের হট লাইনে ১০৬ (অভিযোগকেন্দ্র) আগত এক অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের একটি অ্যানফোর্সমেন্ট টিম শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালায়। সাম্প্রতিক কালে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে বিমান বন্দরে যাত্রী হয়রানীর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 
 
দুদক জানায়, বুধবার সকালে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তারক্ষীর মাধ্যমে ভারত থেকে আগত এক যাত্রীকে হয়রানি এবং অনৈতিক অর্থ দাবির অভিযোগ আসে দুদকের হট লাইনে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের সহকারী পরিচালক মঈনুল হাসান রওশনীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম পুলিশসহ বেলা ১২টায় অভিযান চালায়। টিমটি বিমানবন্দরে সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। এরপর দুদক টিম নিশ্চত হয় ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের কাস্টমসে কর্মরত রয়েছেন। পরে কাস্টমস কমিশনারকে এ ঘটনা অবহিত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দুদক টিমকে নিশ্চয়তা দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে দুর্নীতি ও হয়রানি রুখতে কাস্টমস চেকিং পয়েন্টগুলোতে কমিশনারের নিজের মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে তাৎক্ষণিকভাবে তার নিকট অভিযোগ করতে পারেন।
 
এ বিষয়ে অভিযানের সমন্বয়কারী দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী জানান, বিমানবন্দরে দুর্নীতি ও হয়রানির ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকে ম্লান করে। তাই এসব ঘটনা কঠোর হাতে দমন করা প্রয়োজন।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাম্প্রতিক কালে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে বিমান বন্দরে যাত্রী হয়রানীর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং মালেশিয়া প্রত্যাগত শ্রমিকরা লাগেজ নিয়ে বেশি হয়রনীর শিকার হচ্ছেন। সাধারণত প্রবাসী শ্রমিকদের কাস্টমস পণ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তাদের ব্যাগেজ তল্লাশির নামে এ হয়রানী বেশি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমসের এক শ্রেণির কর্মকর্তা বিমান বন্দরে উৎকোচ দাবি করেন। না পেলে মাত্রাতিরিক্ত হয়রানি ও জরিমানা করেন। এছাড়া বিভিন্ন জিনিসের জন্য ট্যাক্স দিতে হবে বলে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপরের নির্দেশে তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযান চালালেও হয়রানি পুরোদমে বন্ধ করা যাচ্ছে না। কর্মকর্তাদের অভিযানের কয়েকদিন পর আবার আগের অস্থা তৈরি হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই