তদন্ত কাজে বাধা

প্রমাণ থাকলেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেননি মুলার

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৪

তদন্ত কাজে বাধা দানের প্রমাণ থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেননি রবার্ট মুলার। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক অস্ত্র পেয়েও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে। রুশ সচিবালয় ক্রেমলিন বলেছে, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেনি। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স স্বীকার করেছেন, জেমস কোমিকে বরখাস্তের পর অনেকে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন বলে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছিলেন সেটি মিথ্যা। এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মিথ্যা কথা বলেছিলেন। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের 

বাধা দানের প্রমাণ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ছিলেন রবার্ট মুলার। গত মাসে তদন্ত রিপোর্ট হস্তান্তরের পর বৃহস্পতিবার সেটি প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল  উইলিয়াম বার। রিপোর্টটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজে বাধা দেয়ার যথেষ্ট প্রমাণ মুলারের কাছে ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি অভিযোগ গঠন করেননি। স্পেশাল কাউন্সেল মুলার পরীক্ষা করে দেখেছেন ট্রাম্প কিভাবে তদন্ত কাজে বাধা দিয়েছিলেন। সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সময় ট্রাম্প এফবিআইয়ের তত্কালীন প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেছিলেন। তিনি ফ্লিনকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের কাউন্সেল ডন ম্যাকঘানকে মুলারের তদন্ত বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সময় টুইট বার্তায় সমালোচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের এসব কর্মকান্ডে প্রমাণ ছিল যে তিনি তদন্ত কাজে বাধা দিয়েছিলেন। মুলার রিপোর্টে এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজস থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুক্তি পেলেও তদন্ত কাজে বাধা দানের ক্ষেত্রে তিনি ফেঁসে যেতে পারেন। মুলারের রিপোর্টে সেই বিষয়টি আছে। কংগ্রেস চাইলে এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তও করতে পারে।

বিভক্ত ডেমোক্র্যাটরা

মুলারের ৪৪৮ পৃষ্ঠার রিপোর্টে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিভাবে তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের তথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এটাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তবে কিভাবে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে সেটি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির চেয়ারম্যান জেরল্ড নাডলার মুলারের পূর্নাঙ্গ রিপোর্টটি তলব করতে পারেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা স্টেনি হোয়ার তদন্ত কাজে বাধা নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত করে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ অনেকেই এখন ট্রাম্পকে অপসারণের সঙ্গে একমত নন। প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট সদস্য আলেক্সন্দ্রিয়া ওকাসিও করতেজ বলেছেন, ১৮ মাস আগে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন না। তবে এই ইস্যুকে ব্যবহার করা যেতে পারে।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল এমন কোনো প্রমাণ মুলারের রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। রাশিয়া বরাবরই বলে আসছে, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগসাজসও করেনি। আমাদের কথাই সত্যি হলো।