বাংলাদেশের চরাঞ্চলে জীবন মান উন্নয়নে কৃষি খাতের গুরুত্ব এবং চরের কৃষিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের উদ্যোগে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. আনিস উদ দৌলা, জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান, সৌরশক্তি বিশেষজ্ঞ ড. দীপাল বড়ুয়া এবং অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের কর্মসূচি পরিচালক এম বি আখতার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন যে, বাংলাদেশ চরের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হলেও এখনো এক্ষেত্রে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, চরের কৃষিজীবীরা যেন ফসলের ন্যায্য মূল্য পান সেদিকে বিশেষ মনযোগ দেয়া দরকার। এ জন্য বাজারের সঙ্গে কৃষকের কার্যকর সংযোগ স্থাপনে বিনিয়োগ করতে হবে।
এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা বলেন, কৃষকদের জন্য ফসল বিমার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো এখনও সফল হয়নি, তাই কার্যকর ফসল বিমা বিষয়ে আরও গবেষণার পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারি।
IMG0
অক্সফ্যামের পক্ষ থেকে এম. বি. আখতার বলেন, চরের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সার্বিক পরিকল্পনার অভাবে গৃহীত উদ্যোগগুলো আশানুরূপ সফলতা পায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন চরে গাভি পালন কর্মসূচির মাধ্যমে দুধ উৎপাদন অনেক খানি বাড়ানো গেলেও সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদনকারি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ তার বক্তব্যে চরের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি তা যেন কার্যকরভাবে ব্যয় করা হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এছাড়া তিনি চরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের এস এম মনজুর রশীদ।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, অ-কৃষি খাতের তুলনায় কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অধিক হারে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। তাই চরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কৃষি খাতের ওপর জোর দেয়ার কোন বিকল্প নেই। আর চরের কৃষি খাতের বিকাশ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
