একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। আর নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং এ সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসা যাবে না। বিষয়টি এখানেই নিষ্পত্তি হওয়ার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদারের লেখা ‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইটির প্রকাশনা উত্সবে তিনি এসব কথা বলেন। শত নাগরিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের নির্যাতনের কারণে বিএনপি আগামী একশ বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। আওয়ামী লীগের এ সীমাহীন অত্যাচার আর নির্যাতন বিএনপিকে আরো বেশি শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় বেগম জিয়া আজ কারারুদ্ধ। তার সবগুলো মামলা জামিনযোগ্য হলেও আমরা তাকে মুক্ত করতে পারছি না। তারপরও বলতে চাই, তিনি যত দ্রুত ফিরে আসবেন ততই আমাদের মঙ্গল। তার ফিরে আসার মানেই হলো, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসা।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ২০০৯ সালে সংসদের প্রথম সারিতে বিএনপির দাবি অনুযায়ী ৯টি আসন না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমি তখন পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, এই সিট দিলে আপনাদের কী সরকারের পতন হবে? এই সংকীর্ণমনা দলের কাছ থেকে কোনো রকম সহনশীলতা, কোনো রকম রাজনৈতিক শিষ্টাচার আমাদের প্রত্যাশা করা উচিত নয়। আজকে আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদেরকে বলছেন, ‘আসুন আপনারা আসুন’। আমরা তো জানি তাদের নেচারটা কী!
