‘কেউ আমার দায়িত্ব নিন, আমি পড়তে চাই’

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৮, ১৩:১৮
 
সাইকেল চালিয়ে মাদ্রাসা যাচ্ছিল ১৩ বছর বয়সী রাকিব। রাস্তায় হঠাৎ ড্রাম ট্রাক চাপা দেয়। বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় প্রাণে বেঁচে গেলেও শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একটি পা। স্বাভাবিক জীবনযাপনে সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। সেই থেকে বন্ধ পড়ালেখা। পা হারানো রাকিবের সীমাহীন আকুতি, ‘কেউ আমার দায়িত্ব নিন। আমি পড়তে চাই।’ রাকিব তাড়াশের মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে ও তাড়াশ ফাজিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
 
রাকিবের বাবা বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাঁচ জনের সংসার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রাকিব বড়। ভূমিহীন অতি দরিদ্র পরিবারটির দিন আনা-দিন খাওয়া অবস্থা। স্বপ্ন দেখতেন, ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে মাওলানা হবে। সেই আশা বুঝি আর পূরণ হয়না!
 
২০ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসা যাওয়ার পথে ঘাতক ট্রাক রাকিবের বাম পা কেড়ে নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ডান পা। ট্রাকের চালক নিজের ভুল স্বীকার করলে মালিক পক্ষ চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যয় হয় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকার মতো। মালিক পক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দিয়েই লাপাত্তা। দেনায় জর্জরিত রাকিবের বাবা আরো বলেন, দুর্ঘটনার সময় ডান পায়েরও হাড় ফেটে যায়। চিকিৎসার অভাবে ভাঙা হাড় এখনও জোড়া লাগেনি।
 
রাকিবের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, দিন-রাত ঘরে শুয়ে বসে থাকে ছোট্ট রাকিব। অসম্পূর্ণ চিকিৎসায় ছেলেটা সারাক্ষণ যন্ত্রণায় কাতরায়। রাকিব পড়তে চায়। সুস্থ হয়ে আবারও মাদ্রাসা যেতে চায়।
 
পা হারানো রাকিব বলে, কেউ আমার দায়িত্ব নিন। আমি পড়তে চাই। মাওলানা হয়ে বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ