জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হয়েছে দুই দিনের নজরুল উত্সব। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া উত্সবের আয়োজক বাংলাদেশ নজরুল সঙ্গীত সংস্থা। উৎসবের প্রথম দিনে নজরুল সঙ্গীতের চর্চা, প্রচার ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয় পশ্চিমবঙ্গের আগরতলার নজরুল সঙ্গীত শিল্পী মায়া রায়কে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। শুভেচ্ছা কথনে অংশ নেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কবির নাতনি খিলখিল কাজী। সংক্ষিপ্ত কথন শেষে কবির গানে আর কবিতা পাঠের আসর বসে। শুরুতে সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘দোলে ঝুলন দোলায়’। এরপর মঞ্চে আসেন প্রমিতা দে। গেয়ে শোনান ‘আমি গগনে গহনে সন্ধ্যাতারা’। সঞ্জয় কবিরাজের গাওয়া গানের শিরোনাম ছিল ‘পেয়ে কেন নাহি পাই’। ‘এলো কৃষ্ণ কানাইয়া’ শীর্ষক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রাবন্তী ধর। এরপর নজরুলের গানের সুরে নাচ করে শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল। একক নৃত্য পরিবেশন করেন আগরতলার শিল্পী অনুপমা দাশ। নাচ শেষে সুরের আশ্রয়ে মঞ্চে আসেন নাহিয়ান দূরদানা শুচি। গেয়ে শোনান ‘এ নহে বিলাস বন্ধু’। সঞ্জয় হালদারের কণ্ঠে গীত হয় ‘এ আঁখিজল মোছ প্রিয়া’। মোখলেসুর রহমান পরিবেশন করেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন’। মইদুল ইসলাম, বণা রাণী হালদার ও রেজাউল করিমর শুনিয়েছেন ‘সুদূর মক্কা মদীনার পথে’ ও ফাগুন ফুরাবে যবে’ ও তরুণ অশান্ত কে বিরহী’ শিরোনামের গান।
এছাড়া একক কণ্ঠে গান শুনিয়েছেন ঐশ্বর্য সমদ্দার, সুমন মজুমদার, খায়রুল আনাম শাকিল, জোসেফ কমল রড্রিক্স, করিব হাসান খান, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সী, সুমন চৌধুরী, ডালিয়া নওশীন, সেলিনা হোসেন, গৌরী নন্দী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ফেরদৌস আরা ও শারমিন সাথী ইসলাম। ছিল শিশু শিল্পীদের সম্মেলক কণ্ঠের গান। কচিকণ্ঠের পরিবেশিত দু’টি গানের শিরোনাম ছিল ‘খেলিছ এ বিশ্বলয়ে’ ও ‘বরষা ঋতু এলো’। নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন সুমনা বিশ্বাস।
আজ শনিবার উৎসবের সমাপনী দিন
‘সারাবিশ্বে মানুষ বেঁচে থাকার জন্যে খাদ্য, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নতি করে আসছে, যেন অচিরেই কোন বিপর্যয় না আসে। অথচ আমরা পরিবেশ ধ্বংস করছি। আমি বুড়িগঙ্গা নদীর কান্না ছবিটি এঁকেছি আবেগ তাড়িত হয়ে। যদিও ছবিটি বিমূর্তভাবে আঁকা। আমার মনে হয়েছে বুড়িগঙ্গা নদীটি নীরবে কাঁদছে। যা আমার হূদয়ে হাহাকার সৃষ্টি করেছে। আমি অনুভব করেছি বুড়িগঙ্গার দুঃখ। নদীর তলদেশে প্রায় ৮ ফুট পুরু পলিথিনের আস্তর। নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধময়। সবাইকে সচেতন করতেই আমার আবেগ আমি আমার চিত্রকর্মে তুলে ধরেছি’— বুড়িগঙ্গা নদী নিয়ে আঁকা ছবির পেছনে নিজের আবেগের কথাই শিল্পী গোলাম মোহাম্মদ জোয়ার্দার এভাবে বর্ণনা করছিলেন।
শিল্পী জি এম জোয়ার্দার-এর তৃতীয় একক প্রদর্শনী ‘রূপসী বাংলা’। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডির অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্যা ঢাকার লা গ্যালারিতে ১২ দিনব্যাপী শুরু হয়েছে এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অধ্যাপক শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অলিয়ঁন্স ফ্রঁসেস-এর পরিচালক ব্রনো প্লাস, মনির হোসেনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
রূপসী বাংলা শীর্ষক প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলো আকার বিষয় হচ্ছে— ‘বাংলার প্রকৃতি, মানুষ ও এর চারপাশের বিষয়। তিনি ছবিগুলো এঁকেছেন বিমূর্তভাবে। বিভিন্ন রঙের খেলা তার ছবিতে ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীতে ৩৯টি ছবি স্থান পেয়েছে। ছবিগুলোতে জল রং, চারকোল, মিক্সড মিডিয়া ও এক্রেলিক ব্যবহার করা হয়েছে। প্রদর্শনীটি চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। তবে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার অন্যান্য দিনের সময়ের সাথে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
লোক নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
পথচলার ৩৭ বছর পূর্ণ করেছে লোক নাট্যদল। আনন্দঘন এই উপলক্ষে গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ছিল আলোচনা ও নাট্য প্রদর্শনী। দলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধিকর্তা লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, নাট্যজন আতাউর রহমান ও নাট্যকার আব্দুস সেলিম।
আলোচনা শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এবং লিয়াকত আলী লাকী নির্দেশিত ‘রথযাত্রা’ নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। নাটকটির গল্পে দেখা যায়, পুরোহিত কিংবা রাজা-মন্ত্রী নয়, সাধারণ মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে। থেমে থাকা মহাকালের রথটি চালাতে ব্যর্থ হয় পুরোহিত, রাজা, মন্ত্রী এবং সৈন্যসামন্ত। একদল সাধারণ মানুষের হাতে তা অত্যন্ত সাবলীলভাবে চলতে শুরু করে।
ইত্তেফাক/কেকে
