২-০ চান স্টিভ রোডস

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৫

চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন দলের হেড কোচ স্টিভ রোডস। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ঢাকায় ফিরে গেলেও তিনি চট্টগ্রামেই ছিলেন। গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কোচ বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমন একটা টিম যাদেরকে সবসময় হারানো যায় না। এমন সুবর্ণ সুযোগ সবসময় আসেও না। এমন একটা টিমকে হারানো সত্যিই খুব আনন্দের। স্টিভ বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমীহ করার মতই একটি দল। ওরা দ্বিতীয় টেস্টে কামব্যাক করার জন্য নিজেদের উজাড় করে খেলবে আমরা এটা জানি। আর তাই তাদেরকে মোকাবেলা করতে আমরা প্রস্তুতও আছি। আমি সিরিজটা ২-০ তে শেষ করতে চাই।’   

সাগরিকার উইকেটের আচরণ নিয়ে প্রথম দিন থেকেই বিস্তর কথা হয়েছে। তবে এই উইকেট যে খেলার ‘অযোগ্য’ ছিল এমনটা মনে করেন না স্টিভ রোডস। তিনি বলেন, ‘ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশে আপনি টার্নিং উইকেট আশা করতেই পারেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এখন কলম্বোতে শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডের যে টেস্ট ম্যাচ চলছে সেটাও টার্নিং উইকেট। আমার মনে হয় উপমহাদেশের টিমগুলো এ ধরনের উইকেটই আশা করে এবং সে অনুযায়ী নিজেদের পরিকল্পনা সাজায়। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর অন্য প্রান্তে উইকেট বাউন্সি ও সুইঙ্গিং হয় যা সম্পূর্ণ অন্যরকম। আমার মনে হয় এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উইকেটের চরিত্র ভিন্ন হয়ে থাকে।’

টেস্ট অভিষিক্ত নাঈম হাসান ও সাকিবের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন রোডস। সাকিব সম্পর্কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিব অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। অধিনায়ক হিসেবে সে খুবই মেধাবী। দুইমাস পর ফিরে এসে মানসিকভাবে সে হয়তো খুব ঠিক ছিল না। কিন্ত দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সে তার কাজটা ঠিকমতই করেছে। আগামী টেস্টে সে হয়ত আরেকটু বেশি প্রস্তুতি নিয়ে নামতে পারবে। অধিনায়ক হিসেবে তার মেধাকে আরো কাজে লাগাতে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি। নাঈমের বয়সে অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট পাওয়া রীতিমত অসাধারণ ব্যাপার। সে যেভাবে বোলিং আক্রমণ করেছে তা সত্যিই চমত্কার।’

বাংলাদেশ টিমে চারজন স্পিনার থাকলেও একজন রিস্ট স্পিনারের অভাব রয়েছে কিনা জানতে চাইলে রোডস বলেন, ‘আমি মনে করি এটাও একদিন বাংলাদেশ পাবে। তবে আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন যে কিনা একটা পরিবর্তন আনতে পারবে। যদি আমরা একজন বাঁহাতি অর্থোডক্স কিংবা ডানহাতি লেগ স্পিনার পাই তাহলে তরুণরা তাদেরকে অনুসরণ করতে পারবে। যেমন শেন ওয়ার্ন আসার পর অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ক্রিকেটাররা রিস্ট স্পিন করার চেষ্টা শুরু করে। বাংলাদেশে সাকিব খুব জনপ্রিয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে বাংলাদেশ একদিন একজন রিস্ট স্পিনার খুঁজে পাবে। আমরা এজন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা দেশজুড়ে স্পিন ক্যাম্প করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আশা করছি আমরা সেরা রিস্ট ও ফিঙ্গার স্পিনারের সন্ধান পাব।’