নেপাল বাংলাদেশের বিপদের বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে নেপাল প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের নেপাল দূতাবাসের আয়োজনে গতকাল এই দুইদেশের বন্ধুত্বে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয়। দুইদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন শিল্পীরা।
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এ আয়োজন করে নেপাল দূতাবাস। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করে আয়োজনের উদ্বোধন করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. চুপ লাল ভূষাল ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ধন বাহাদুর অলি।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতেই নেপালের ঐতিহ্যবাহী কুমারী নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসেন সুশীলা থাপা। নৃত্যের ছন্দে তিনি তুলে আনেন ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য। এর পর নেপালিদের শিল্পীদের আরও নৃত্য পরিবেশন করেন সুমন সাগর জং। এই দুই শিল্পী একে একে পরিবেশন করেন কউরা নৃত্য, টপ্পা নৃত্য, ভোজপুরি নৃত্য ও জাউর নৃত্য।
কউরা নৃত্যের ছন্দে শিল্পীরা তুলে আনেন নেপালের মাগার, গুরাং ও দূরা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন আচারানুষ্ঠান। টপ্পা নৃত্যে নেপালের মাগার, ছেত্রী ও ঠাকুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। ভোজপুরি নৃত্যে ভোজপুরিদের উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা তুলে ধরেন শিল্পীরা। জাউর নৃত্যে নেপালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নৃত্যধারার একটি। এটিতে শিল্পীরা তুলে আনেন নেপালের সংস্কৃতিকে। মাদল, বাঁশি ও মুজুরার পাহাড়ি সুরে এ নৃত্য মন জয় করে নেয় মিলনায়তন ভর্তি দর্শকদের।
বাংলাদেশি শিল্পীদের মধ্যে অংশ নেন তনুশ্রী মাঞ্জি গোর্কা ও আমিনুল আশরাফ। তনুশ্রীর পরিবেশনার শুরুতেই ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রেম পর্যায়ের গান ‘তুমি রবে নীরবে’র সঙ্গে নৃত্য। এর পর মনিপুরী নৃত্যে ছন্দে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমাখ্যান তুলে ধরেন দুই শিল্পী। সব শেষে ছিল লোকজ নৃত্য। তারা ‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা’ ও ‘বকুল ফুল’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
