বছরের পর বছর লোকসান দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমান। গরিব ছড়াকার ব্রত রায় সম্প্রতি ভ্রমণ করেছেন একটি উড়োজাহাজে। সেই অভিজ্ঞতার কাহিনি শুনুন—
‘ভদ্রমহিলা-মহোদয়গণ, আমি ফারজানা ছন্দা
উড়োজাহাজের পক্ষ হইতে জানালাম শুভসন্ধ্যা!
সেরা যত আছে বিমানচালক আমাদের এই বঙ্গে
শুনে আনন্দ হবে... সকলেই আছে আমাদের সঙ্গে!
যদিও তাদের কেহই নেই এ ফ্লাইটে—এটাই দুঃখ
সাহস করে যে যাত্রা করেছি এটাই ব্যাপার মুখ্য!’
‘সহমর্মিতা... আমাদের সাথে যারা আজ যেতে চাননি
কিন্তু অন্য এয়ারলাইন্সে আজকে টিকিট পাননি!
যাহাদের কাছে সময় এবং টাকার নেই তো মূল্য,
জীবন-মৃত্যু যাহাদের কাছে পায়ের ভৃত্যতুল্য—
তারাই মূলত আমাদের সাথে ভ্রমণ করেন নিত্য
তাহাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ মোদের চিত্ত!’
‘যাহাদের সিটে সিটবেল্ট আছে, বাঁধতে পারেন চান তো
বাঁধার নিয়ম বইয়ে লেখা আছে—বলে বলে আমি ক্লান্ত!
বিপদের ক্ষণে অক্সিজেনের মাস্কটাস্ক কিছু মিললে
বাচ্চার কথা পরে ভাবা, আগে নিজের করুন হিল্লে!
কোনটাকে আগে মাস্ক পরাবেন একটির বেশি বাচ্চা—
রয়েছে যাদের? সেটাকে পরান যেটা আপনার সাচ্চা!’
‘আমাদের দেওয়া খাবার খারাপ-আগেই বলছি পষ্ট
কেন শুধু শুধু প্যাকেট খুলিয়া খাবার করেন নষ্ট?
খুললে প্যাকেট পরের ফ্লাইটে যাত্রীরা সেটা খায় না
দেশের স্বার্থে একটুকু আরো সচেতন হওয়া যায় না?’
‘যাওয়ার সময় সাথে নিয়ে যান আপন আপন দ্রব্য
বিমানের মাল নেয় যারা তারা নয়তো মোটেই সভ্য!
কিছু ফেলে গেলে অসুবিধা নেই ভাগ করে নেব আমরা
গালি দিতে চান? দিন না! ভীষণ মোটা আমাদের চামড়া!’
‘যাক ভালো ভাবে পৌঁছে গিয়েছি, সবাই পারেন হাসতে
এরকম সেবা ফের যদি চান আবার পারেন আসতে!’
