বৈশাখী গিফট!

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫১

রাহুল ও রুমির প্রায় চার বছর ধরে রিলেশন চলছে। একদিন রুমি রাহুলকে বলল, ‘দেখো রাহুল, আমাদের রিলেশনের আজ প্রায় ৪ বছর হয়ে যাচ্ছে, অথচ তুমি একবারও আমাকে বৈশাখী শাড়ি গিফট করলে না।’ রুমির কথা শুনে রাহুল বলল, ‘আচ্ছা তোমাকে সত্যিই এবার বৈশাখী শাড়ি গিফট করব।’

রাহুলের কথা শুনে রুমি তো দারুণ খুশি। সে নতুন শাড়ি পাবে এই ভেবে এত খুশি হলো যে চার বছর আগে তার এক্স-বয়ফ্রেন্ডের দেওয়া পুরোনো বৈশাখী শাড়িটা এক পুরাতন কাপড়ের দোকানে বিক্রি করে দিল।

পহেলা বৈশাখের ঠিক দুই দিন আগে রাহুল রুমির সঙ্গে দেখা করল এবং তার জন্য আনা শাড়িটা বের করে বলল, ‘এই যে তোমার বৈশাখী গিফট। দেখো তো পছন্দ হয়েছে কি না?’

রুমি তো আনন্দে আত্মহারা। গিফটটা কি সুন্দর দামি বাক্স দিয়ে প্যাকিং করা। না জানি ভেতরে কত দামি শাড়ি আছে! সে চোখে চমক নিয়ে বলল, ‘বাহ্ কত সুন্দর! কোথা থেকে এনেছ এটা?’

রাহুল উত্সাহের সঙ্গে বলল, ‘গুলশান মার্কেট থেকে এনেছি, খুলে দেখো তো পছন্দ হয়েছে কি না?’

রুমি আদিখ্যেতা দেখিয়ে বলল, ‘না, এখন খুলতে হবে না। তুমি গিফট দিয়েছ, খারাপ হবে না।’

‘তবুও একবার দেখে নিলে হতো না!’ রাহুল ইতস্তত বলল।

রুমি হেসে বলল, ‘এই প্যাকেটটা আমি বৈশাখের দিন সকালে খুলব। তারপর শাড়ি পরে বাইরে বের হয়ে, তোমাকে নিয়ে সারাদিন ঘুরব, কেমন!

 

পহেলা বৈশাখের দিন। সকালে রুমি আগ্রহ ভরে বাক্সটি খুলল। রাহুলের দেওয়া শাড়িটা নেড়েচেড়ে দেখল কতক্ষণ। কিন্তু হায়! শাড়ি দেখে রুমির মাথায় যেন বাজ পড়ল। সে তখনই রাহুলকে ফোন দিয়ে কড়া কণ্ঠে বলল, ‘শাড়িটা গুলশান থেকে এনেছ, তাই না?’

রাহুল বলল, ‘হুম কেন?’

রুমি বলল, ‘এই শাড়িটা আমাকে হূদয় দিয়েছিল। পুরোনো হয়ে যাওয়ায় দশ-বারো দিন আগে ওটাকে পুরাতন কাপড়ের দোকানে বিক্রি করে দিই। শাড়ির এক কোণে একটা চিহ্নও আছে—এইট লেখা।’ এই বলে রাগে গজরাতে লাগল সে!

রাহুল থতমত খেয়ে গেল। সে কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না।

রুমি আবারো বলল, ‘শেষে পুরাতন শাড়ি কিনে সুন্দর প্যাকেটে ভরে আমাকে গিফট করলে তাই না? যাতে আমি শাড়িটা খুব দামি মনে করি।’

একটু পরে রাহুল ধাতস্থ হয়ে বলল, ‘এই হূদয়টা কে?’

রাহুলের প্রশ্ন শুনে এবার রুমি ‘না মানে... ইয়ে মানে, মানে...’ করতে লাগল!

হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ।