g স্পোর্টস রিপোর্টার
আঙুলের চোট কাটিয়ে উঠলেও সাইড স্ট্রেইনের ব্যথার কারণে জাতীয় দলে নেই তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩০ নভেম্বর শুরু হতে চলা দ্বিতীয় টেস্টেও পাওয়া যাবে না দেশ সেরা এ ওপেনারকে। তামিমের অনুপস্থিতিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ওপেনিংয়েও চলছে রানের খরা। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নিষ্প্রভ ওপেনারদের ব্যাট। ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে এসে ওপেনারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এখন বড় চিন্তার কারণ।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সাতটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এ সব ম্যাচে ওপেনিংয়ে খেলেছেন তামিম, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। সাত ম্যাচের ১৪ ইনিংসে মাত্র তিনবার পঞ্চাশ রান পার করতে পেরেছে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। ছয় ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘর পার হওয়ার আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছেন ওপেনাররা। বলাবাহুল্য, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের ওপেনারদের সবেধন নীলমণি একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিটিও তামিমের। জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫২ রান করেন তিনি। তারপর থেকে বছর জুড়ে বিবর্ণ ওপেনারদের ব্যাট।
সাদা পোশাকে বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন লিটন দাস। আসন্ন মিরপুর টেস্টের আগে বাদ পড়তে যাচ্ছেন ইমরুল! অগ্রজদের টানা ব্যর্থতার কারণে দলে সুযোগ পাওয়া বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিকের অভিষেক হয়ে যেতে পারে মিরপুরে।
বছর শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে। সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তামিম-ইমরুল ৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন। যা এখন অব্দি ২০১৮ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং জুটি। ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে এ দুই বাঁহাতির গড়া ৫২ রানের জুটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইমরুল-লিটনের গড়া ৫৬ রানই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংসে ইমরুল-সৌম্য যথাক্রমে ১ ও ১৩ রানে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইমরুল-লিটনের জুটি ৮ রানেই ভেঙেছিল। মিরপুরে দুই ইনিংসে তাদের জুটির স্থায়ীত্ব ছিল ১৩ ও ৯ রান।
জুলাইয়ে ক্যারিবিয়ানে গোটা দলের মতোই ওপেনাররাও সুবিধা করতে পারেননি। তামিম-লিটনের জুটি অ্যান্টিগায় ১০, ১৪ রান এবং কিংস্টনে ২০, ২ রানে বিছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ব্যর্থতার দলিল হয়ে আছে ওপেনারদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ। চলতি বছরে ৫ ম্যাচে ১০ ইনিংসে ইমরুল ১৯.২০ গড়ে ১৯২ রান করেছেন। ৪ ম্যাচ খেলে ৮ ইনিংসে ২০.৩৭ গড়ে ১৬৩ রান করেছেন তামিম। ৪ ম্যাচের ৮ ইনিংসে ১৪.৮৭ গড়ে লিটন দাসের সংগ্রহ ১১৯ রান। আর সৌম্য ১ ম্যাচে ৫.৫০ গড়ে ১১ রান করেছেন। ওপেনারদের ব্যাটিং দৈন্য চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ওপেনারদের ব্যর্থতা প্রকট আকার ধারণ করছে।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে তিনি বলেছেন, ‘এটা একটা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ টপ অর্ডার ভালো খেলছে না এবং মিডল অর্ডারও ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে না। সেই হিসেবে ব্যাটিং নিয়ে একটা চিন্তা সবসময় থেকে যাচ্ছে। যেহেতু আমরা এখানে লো বাউন্সের উইকেটে খেলেছি সে হিসেবে মেনে নেয়া যায় যে, কোনো মতে ২৫০ রান করলে হয়তো লড়াইটা করা যাবে। কিন্তু এটা অবশ্যই চিন্তা যে টপ অর্ডার রান করছে না। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’
