নুসরাতের পরে কে?

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫১

১৮ বছর বয়সী একটা মেয়ে দিনেদুপুরে বাঁচাও বাঁচাও করে চিত্কার করছে। একটা জীবন্ত মানুষ পুড়ে মরে যাচ্ছে কিন্তু কেউ সেই ডাক শুনতে পাচ্ছে না। মেয়েটি লড়াই করতে চেয়েছিল জীবনের শেষ পর্যন্ত। লড়াই সে করেছে কিন্তু লড়াই করতে করতে জীবনটাই দিয়ে দিয়েছে। ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির কথা বলছি। শুধু নুসরাত কেনো, এরকম ঘটনাই তো এখন আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গেছে। নির্বিচারে নারী-শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের পরে হত্যা, রাষ্ট্রের ক্ষমা করে দেওয়ার এক অদ্ভুত ভূমিকা যেন আমাদের এই দেশটাকে অপরাধীদের আশ্রয়স্থল বানিয়ে দিয়েছে, ধর্ষণকারীদের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তুলেছে। কলেজ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি। জেলে বসেই তার সাগরেদদের নুসরাতকে মেরে ফেলতে নির্দেশ দেন। এত সাহস এরা কোথায় পায়? সাহস পাবে না কেনো? জানেই তো বিচার হবে না, যেমনটা হয়নি তনু হত্যার বিচার, মিতু হত্যার বিচার আর সুবর্ণচরের গৃহবধূকে ধর্ষণকারী তো কয়েকদিন আগেই ছাড়া পেল। আর রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার এই ধৃষ্টতা দিনেদুপুরে একটা মেয়েকে এভাবে পুড়িয়ে মারার সাহস দিয়েছে যা রাষ্ট্র কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারে না। এর দায় দেশমাতাকে তুলে নিতে হবে। গত তিন মাসে প্রায় ৩০০ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু বিচার হয়েছে কয়টা? আর বিচার হবেই বা কীভাবে? বিচারব্যবস্থা তো এত তড়িত্ গতির না। তাহলে ধর্ষণের জন্য কি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করা যায় না? রাষ্ট্র চাইলে সব সম্ভব, জামিনবিহীন মামলার ব্যবস্থা করা যায় কি না তার আইনি ব্যাখ্যা খুঁজে দেখতে হবে। না হলে এমন লোমহর্ষক ঘটনা আরো দেখতে হবে, তার চেয়ে উল্টো অপরাধীদের ভয় দেখিয়ে দিতে হবে। অপরাধীর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে এর ফলাফল অনেক খারাপ হবে। আর নুসরাত হত্যা বা ধর্ষণে তো পোশাকের দোষ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার উপায় নেই কারণ সে ছিল বোরকা পড়া। তবুও কিছু মানুষ তার পোশাক নিয়ে কথা তুলেছে, ফেসবুকে। এদেরকে বিকলাঙ্গ বললে কম বলা হবে। তবে কেনো যেনো মনে হয় সিরাজউদ্দৌলার চেয়েও বড় পশু যারা তার মুক্তির দাবিতে মিছিল করেছে। তাদের মধ্যে নারীও রয়েছে, একটা নারী কীভাবে আরেকটা নারীর ধর্ষণকারীর মুক্তি দাবি করে তা বোধে আসে না। কোনো ভয়ভীতি এই পথে নামাতে পারে না, এরাও নিশ্চিত মানুষরূপী পশু। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তাকে পুড়িয়ে মারার দলেও একটা নারী ছিল।

মূল বিষয় হচ্ছে, আমাদের আসলে দিনে দিনে দেনার পরিমাণ বেড়েই চলছে। এভাবে দেনা বাড়তে থাকলে তো ঋণের দায়ে দেশটাই অন্য কারো হাতে চলে যাবে। সেই হাত নিশ্চয়ই তাদের হাত যারা এই দেশ চায়নি। সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরাও আমাদের মা-বোনদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো আর বর্তমানে এইসব পশুরাও পড়ে। তাহলে এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য তো থাকে না। তাই আর রেহাই দেওয়ার সুযোগ নেই, ধর্ষণকারীর হাত গুঁড়িয়ে দিতেই হবে। হোক সে হাত অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে ভয় থেকেই যায়, এর পরে কে?

n লেখক:শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়