গোপালগঞ্জে পুরনো রডে ছাদ ঢালাই

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৮, ০২:২৩

গোপালগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোয়ার্টারের ছাদে পুরনো রড দিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কোয়ার্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার ওই ছাদের ৩ হাজার ১শ’ স্কয়ার ফুটের ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, অফিস চত্বরে ১৯৭২ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর একতলা বিশিষ্ট কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। পরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এখানে বসবাস শুরু করেন। ২০০০ সালের দিকে এ ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এ ভবনের ছাদ, দেয়ালের পলেস্তারা ও ভিম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছাদ ও বিমের রডে মরিচা ধরে বেড়িয়ে আসে। ছাদ, বিম ও দেয়ালে ছোট-বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়। সেখানে অসংখ্য আগাছা জম্মে। গত ১৪ মার্চ পানি উন্নয়ন বোর্ড টেন্ডার আহ্বান না করেই ওই ভবনের মেরামত কাজ শুরু করে। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা ভবনটি পরিদর্শন করেন। তারা পুরনো ছাদ ফেলে দিয়ে নতুন ছাদ দিয়ে ভবনটি সংস্কারের পরামর্শ দেয়। গোপনে পানি উন্নয়ন বোর্ড পছন্দের খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনিলিং ইন্টারন্যাশনালকে কাজ পাইয়ে দেয়। তারা এ ভবন সংস্কারের কাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজের শ্রমিক (রাজু মিয়া, কামাল শেখ) বলেন, ছাদে একটি নতুন রডের পাশাপাশি একটি পুরনো রড ব্যবহার করার নির্দেশ দেন ঠিকাদারের প্রতিনিধি ইরান। আমরা সেভাবেই নতুন ও পুরনো রড মিশিয়ে ছাদের রড বেঁধেছি। ছাদের ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে রড ঢেকে গেছে।

টুঙ্গিপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মীর শাহিনুর রহমান বলেন, ছাদের মূল ডিজাইনে পুরনো রড ব্যবহারের অনুমোদন নেই। পুরনো ছাদ থেকে পাওয়া সামান্য পুরনো রড কার্নিশে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তিনি আরো জানান, মাত্র ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ভবনের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। পরে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যয় বাড়তে পারে। টেন্ডার ছাড়াই আমরা প্রথম কাজ শুরু করি। পরে আমাদের বিশেষজ্ঞরা এ ভবন পরিদর্শন করে পুরনো ছাদ ফেলে নতুন ছাদ দিয়ে ভবন সংস্কারের পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। বিধি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নেয়। খুলনার ইউনিলিং ইন্টারন্যাশনাল এ ভবনের সংস্কারের কাজ পেয়ে কাজ করছে। এখানে টেন্ডার গোপন বা পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইরান বলেন, পুরনো ছাদ ভেঙে পাওয়া ১ হাজার ২শ’ কেজি পুরনো রড পানি উন্নয়ন বোর্ড নতুন ছাদে ব্যবহার করতে বলে। এ সংক্রান্ত বৈধ কাগজও আমার কাছে আছে। কিন্তু আমি সেখানে মাত্র ৬ কেজি পুরনো রড পেয়েছি। এ রড নতুন ছাদে ব্যবহার করেছি।

ইত্তেফাক/নূহু