উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের বিশাই মাতুব্বরেরডাঙ্গী গ্রামে গত ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এক তরুনীকে(২২) ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ৫দিন পর মঙ্গলবার মেয়েটির ভাই বাদী হয়ে ২জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ১/৩০ ধারায় চরভদ্রাসন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭। এ বিষয়ে মেয়েটির সঙ্গে কথা হলে মেয়েটি জানায় ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে ঐ ইউনিয়নে তার ফুপুর বাড়ি বেড়াতে আসে সে, রাতে অতিরিক্ত গরম থাকায় মেয়েটি তার ফুপুর সঙ্গে চৌকিতে না ঘুমিয়ে মাটিতে বিছানা করে ঘুমিয়ে পড়ে। গরমের কারনে দরোজা খুলে বাইরে বের হলে কয়েকজন লোক তার মুখ ও পা বেঁধে পার্শ্ববর্তী নদীর ধারে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। মেয়েটি বলে আমি অসুস্থ মানুষ আমি ওদের হাতে পায়ে ধরে অনেক কাকুতি মিনতি করেছি। কিন্তু আমার কোন কথা না শুনে একই ইউনিয়নের ফকিরডাঙ্গী গ্রামের মোহন শিকদারের ছেলে রানা(২৬) আমাকে ধর্ষণ করে।'
মঙ্গলবার রাতে মেয়েটির ফুপুর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান ‘ঘটনার মাঝ রাতে তার ঘুম ভাঙলে তিনি ঘরের দরোজা খোলা দেখতে পান। ভাতিজিকে ঘরে না দেখে আশেপাশে খুঁজতে শুরু করেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে স্থানীয় পরান ফকিরের ছেলে ইসমাইল ফকির(৩৫) তার ভাতিজিকে কাদামাখা অবস্থায় তার কাছে পৌঁছে দিয়ে যায়। ধর্ষণের ঘটনায় ইসমাইল জড়িত কিনা এ প্রসঙ্গে মেয়েটির ফুপু বলেন তিনি তার ভাতিজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তার ভাতিজি শুধু রানা ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে তাকে।
ইসমাইলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান ঐ রাতে তিনি নদীতে দুয়ারী পেতে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার সময় টর্চ লাইটের আলোতে মেয়েটিকে দেখতে পান। তার শব্দ পেয়ে একটি ছেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি মেয়েটিকে পোশাক পরিয়ে কাদামাখা অবস্থায় তার ফুপুর কাছে পৌঁছে দেন।
ধর্ষণের ঘটনায় রানা ও ইসমাইলকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে স্বীকার করে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ রাম প্রসাদ ভক্ত ইত্তেফাককে বলেন ‘এ সকল ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষনিক পুলিশের শরণাপন্ন না হয়ে বিলম্ব করায় অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। অপরাধী যেখানেই থাকুক আমরা দ্রুত অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি’।
ইত্তেফাক/নূহু
