১৪ দল ও ২০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের পদচারণায় নগরী মুখর

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৮, ১৯:১৫

উদ্বেগ-উৎকণ্টা, আশা-নিরাশা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে এগুচ্ছে সিসিক নির্বাচনের দিন তারিখ। এদিকে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে প্রচারণায় নেমেছেন চিত্র জগতের শিল্পীরাও। ১৪ দল ও ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পদচারণায় সিলেট নগরী সরগরম। তারা স্ব-স্ব প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন নগরবাসীর কাছে। অন্যদিকে অবশেষে নির্বাচন কমিশনও বেশ নড়েচড়ে বসেছে। কমিশন কয়েকজন মেয়র, কাউন্সিলার প্রার্থী ও সরকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানকেও আচরণ বিধি লংঘনের দায়ে শোকজ করেছে।

১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে:
গত দুদিন সিলেটে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ব্যাপক জনসংযোগ চলছে নৌকার পক্ষে। নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমদ মুক্তা, গণআজাদী লীগের সভাপতি এডভোকেট এস.কে. শিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদৎ হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অশিত বরণ রায়, ওয়াকর্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক সিকন্দর আলী, জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ লিমন, বাংলাদেশ কর্মসংস্থান আন্দোলনের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসাইন, গণ আজাদী লীগের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ আবদুল হাই সবুজ, সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম সোহাগ, সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি আব্দুল জলিল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সিলেট সিটি নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। তারা রেজিস্টারি মাঠ, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার, মহাজন পট্টি, লালদিঘির পার এলাকাবাসী ও জেলা আইনজীবি সমিতির সঙ্গে মত বিনিময় করেন। বিকালে কোর্ট পয়েন্টে ১৪ দল নেতৃবৃন্দ সমাবেশ করেন।

১৭ বছর নয়, দুই বছরেও মানুষের সেবা করা যায়ঃ
বুধবার নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টার হয়ে খরাদিপাড়া, মনিপুরীপাড়া, শিবগঞ্জস্থ লামাপাড়া, গোলাপবাগ, সবুজবাগ, টিলাগড়স্থ শাপলাবাগ, রাজপাড়া, বোরহান উদ্দিন রোড, গোপাল টিলাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগকালে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক  বলেন, পাঁচটি বছরের তিনটি বছরই আমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। যার কারণে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন করা যায় নি। তিনি বলেন, প্রবল ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে ১৭ বছর নয়, দুই বছরেও মানুষের সেবা করা যায়।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মহানগর সভাপতি মাওলানা খলিরুর রহমান, প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান, আব্দুল হান্নান তাপাদার, বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাসাস এর সাধারণ স¤পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক জাকির হোসেন রোকন, সহসভাপতি চিত্রনায়িকা শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, চিত্রনায়িকা শাহিনূর, শেখ রুনা, মহানগর জাসাস এর সাধারণ স¤পাদক তাজ উদ্দিন মাসুম প্রমুখ।

কামরানের ৩৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহারঃ
৩৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান গতকাল বুধবার। মির্জাজাঙ্গালস্থ কামরানের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন।

ঘোষিত ইশতেহারে কামরান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তিকে আরো মজবুত করতে সিলেটকে প্রথম ডিজিটাল নগরী হিসাবে গড়ে তোলা হবে। নতুন কর আরোপ না করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। টেমসের আদলে সুরমার দুতীর আধুনিকায়ন, খেলার মাঠ, প্রতিমাসে ওয়ার্ডভিত্তিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজিয়েট স্কুল স্থাপন করা হবে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু করা হবে শিক্ষাবৃত্তি, ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তর করা হবে। যানজট মুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ ও লিংক রোড তৈরী,ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট, ফুট ওভার ব্রিজ, প্রশস্ত ফুটপাত এবং আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ, আলাদা সাইকেল লেন স্থাপন,জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও ছড়া খনন, সুরমা নদী ড্রেজিং, গ্যাস সংযোগ প্রদান চালু, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সংস্কার, নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন, বর্তমান কারাগারের স্থানে আধুনিক নগর পার্ক, আধুনিক নগর পরিবহন ও নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, সিলেটবাসীর ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারবো না। তবে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এবারও আমাকে নির্বাচিত করলে আমি সর্বোচ্চ প্রতিদানের চেষ্টা করবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও আহমদ হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমানসহ সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

কামরানের বিরুদ্ধে শোকজঃ
আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী কামরানকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রাতে তার নামে শোকজ চিঠি ইস্যু করা হয় বলে সংস্লিষ্টরা জানান, গত ১৯ জুলাই কামরানকে একটি শোকজ করা হয়। এর আগে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জামায়াতে আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ ওসমানী হাসপাতালের অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়কেও আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ করে নির্বাচন কমিশন।

ইত্তেফাক/নূহু