আয়কর ৪০ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করা হচ্ছে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, সবার অংশগ্রহণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র থেকে বড় শিল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। কিন্তু কর আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা এখনো সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারিনি। তিনি বলেন, যে কারণে প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে মাত্র ২০ লাখ লোক ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্ন জমা দেন। তিনি বলেন, করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মধ্যম আয়ের দেশ ও উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে আমাদের সবাইকে সততার সঙ্গে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান করতে হবে। 

গতকাল শনিবার নগরীর স্টার স্পেসিফিক হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে ‘২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের’ উপর এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য  রাখছিলেন তিনি।

রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ইএফডি মেশিনের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। সেন্ট্রাল সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে যাতে কোথায় কোথায় ভ্যাট আদায় হচ্ছে তা জানা যায়। তিনি বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাট থেকে বেরিয়ে এসে আমরা কয়েকটি ধাপ করে দেবো। এরফলে ছোট হারেও ভ্যাট আদায় করলে ভ্যাটের হার ও আওতা অনেক বাড়বে। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটের ৬৫-৭০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ খাত থেকেই অর্জিত হয়। বিদেশি সাহায্যের উপর আমরা তেমন নির্ভরশীল নই। আমাদের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। এটা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। তিনি বলেন, বর্তমানে ইনকাম ট্যাক্স ৩৭ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 তিনি বলেন, এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স কর আদায়ের উন্নত একটি মাধ্যম। তবে আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এডভান্স ট্যাক্স কমানোর চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, কর অবকাশের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে সুফল নিয়ে আসে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাই এটা পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, সরাসরি প্যাকেজ ভ্যাট থাকবে না তবে টার্নওভার ৩৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ভ্যাটের বাইরে থাকেন। বিও একাউন্টে টিআইএন বাধ্যতামূলক নয়, এই আইন এখনো বহাল রয়েছে। তবে ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভূমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর দাবি  সর্বত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন খরচ ১৪-১৫ শতাংশ হলেও আমরা মাত্র ৬ শতাংশ পেয়ে থাকি। এই রেজিস্ট্রেশন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান।

এক মাসের মধ্যে তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যাংকের বুথ স্থাপন হবে:

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী এক মাসের মধ্যে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যাংকের বুথ চালু এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়ে রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, এক মাসের মধ্যে তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যাংক বুথ বসানো হবে। বুথ বসালে পর্যটকদেরও সুবিধা হবে।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের কমিশনার ড. গোলাম মো. মুনীর ও কর অঞ্চল-সিলেটের কর কমিশনার রনজীত কুমার সাহা। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস পলিসি) মো. ফিরোজ শাহ আলম, সদস্য (ভ্যাটনীতি) আব্দুল মান্নান শিকদার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মৃণাল কান্তি দেব, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আসলামউদ্দিন।