তাড়াশে ফসলি জমিতে ইটভাটা, পুড়ছে কাঠ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৭

তাড়াশের ইটভাটাগুলোতে ইট পোড়ানোর কাজে কয়লার বদলে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ ইটভাটা আবাসিক এলাকা ও কৃষি জমির মধ্যে। ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। ইট তৈরি ও টানার কাজ করছে শিশু শ্রমিকরাও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জিগজ্যাগ চিমনিসহ সবগুলো ইটভাটার ভেতরেই উঁচু উঁচু স্তূপ করে রাখা হয়েছে ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছের ছোট-বড় অসংখ্য গুল ও ডালপালার অংশ। সেখান থেকে চলমান ভাটার চুল্লিতে ফেলছেন কয়েকজন শ্রমিক। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় মরে যাচ্ছে ফসল। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ভাটাতেই শিশুরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।

শিশু শ্রমিক ইমরান হোসেন, সাব্বির হোসেন, মমিন আলী, আতিকুর রহমান, আব্দুল্লাহ জানায়- তাদের অনেকের বাবা-মা ভাটা মালিকদের কাছ থেকে দাদন নেওয়ায় তারা পড়ালেখা বাদ দিয়ে ইটভাটায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। দুটি ইটভাটার ৩০০ থেকে ৪০০ গজ দূরেই দক্ষিণে ঝুরঝুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পশ্চিমে মাধাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধাইনগর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাধাইনগর আদিবাসী মহাবিদ্যালয়। আরেকটি ইটভাটার কাছেই ক্ষিরপঁওতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিক্ষার্থী আতিক হাছান, জুয়েল রানা, সৌরভ হোসেন, পিয়াল সরকার, রাজিব এক্কা, মৌসুমী পারভিন, সুরভি খাতুন জানান- বিদ্যালয়ের পাশের ইটভাটার চিমনি থেকে বিশাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হওয়ায় তাদের চোখ জ্বালাপোড়া করে। ভারী যানবাহন ও ইট তৈরির যন্ত্রের বিকট শব্দে শিক্ষকের কথা শুনতে পায় না তারা। ধুলাবালু আর ধোঁয়ার কারণে তাদের সারাবছর সর্দি-কাশি লেগেই থাকে।

তবে উপজেলা ভাটামালিক সমিতির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন, আইন অনুসরণ করেই ভাটাগুলোয় ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর জিগজ্যাগ চিমনির ভাটার চুল্লিতেও আগুন দেওয়ার সময় চার থেকে সাড়ে চার ’শ মণ জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন পড়ে।

এদিকে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উর্বর জমির টপসয়েল কেটে ইট তৈরি করায় ফসল উত্পাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একবার টপসয়েল নষ্ট হলে ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায় তা পূরণ হতে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক বুলবুল আহম্মেদ জানান, কারখানার আইন অনুযায়ী ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনো কাজে নিয়োগ দেওয়া অপরাধ। পরিদর্শন করে প্রমাণ পাওয়া গেলে ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় বগুড়া অঞ্চলের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, বিভিন্ন জেলায় মোবাইল কোর্ট অব্যাহত রয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তাড়াশ উপজেলার ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, কয়েক দিন হলো তিনি তাড়াশে যোগদান করেছেন। শিগগিরই পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আইন লঙ্ঘনকারী ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।