নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা
জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে। বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। সূত্রমতে গত কয়েক মাসে উপজেলায় ৫টি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রমতে, এ পর্যন্ত ছোটবড় এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ লাক্ষাধিক টাকা। তাছাড়া, চলতি বছরে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যালয় উদ্বোধন করা হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনও। এ উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের কোন ঘটনা ঘটলে জেলা শহর বগুড়া থেকে ফায়ার সার্ভিস ডাকতে হয়। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনে পুড়ে সবকিছু শেষ হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, বিদ্যুত্ সংযোগ পেলেই নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম শুরু হবে। ইতিমধ্যে জনবল, পানির পাম্প ও গাড়ি পাওয়া গেছে। বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকার কারণে আমরা কার্যক্রম শুরু করতে পারছি না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার দলগাছা গ্রামে বুলু প্রামাণিক নামের এক ভূমিহীনের বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তার টিনের ছাউনি ও টিনের বেড়ার বাড়িটি আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন এবং নিজস্ব তহবিল থেকে তাকে অর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এরপর গত ১৪ নভেম্বর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রনবাঘা বাজারে ব্যবসায়ী আবু হাছনাত হেলালের গোডাউনে সন্ধ্যা রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থল নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ পরির্দশন করেন। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ী আবু হাছনাত হেলাল।
তারপর গত ২০ নভেম্বর মধ্যরাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমা গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দিন ও তার দুই ভাইয়ের ২১টি খড়ের পালা ও ৮০মণ ধানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোসলেম উদ্দিনের ছেলে সুলতান মাহামুদ ।
এছাড়াও গত ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার ওমরপুর বাজারে মেসার্স ভাই ভাই ট্রের্ডাস নামের একটি কীটনাশক ওষুধের দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। অপরদিকে, ওই দিন ভোরে উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে কৃষক লোকমান হোসেনের একটি খড়ের পালায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন কৃষক লোকমান আলী।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আখতার বলেন, দেশে বিদ্যুত্ ও আগুনের ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে দিন দিন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও বাড়ছে। তবে সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। খুব শিঘ্রই নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম শুরু হবে।
