সাভারে আবারো একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকের অবহেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালটির মালিক, চিকিৎসক ও স্টাফরা পলাতক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহত ওই নারীর মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আজ শনিবার সকালে সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লায় অবস্থিত রূপসী বাংলা হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারীর নাম শেফালী আক্তার (২৪)। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার বাহাজ উদ্দিনের মেয়ে এবং গাজীপুর জেলার সদর থানার ইছর গ্রামের সাকিবুল হাসানের স্ত্রী।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এবং ভুল চিকিৎসার অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর পর থেকে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে নিহতের স্বজনেরা।
এসময় অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রসুতি বিশেষজ্ঞ ডা. হাসিনা মমতাজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও স্বজনদের বিক্ষোভের মুখে কৌশলে পালিয়ে যায়। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলতে সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিহতের মা আমেনা আক্তার জানান, গত ২৬ জুলাই বিকেলে শেফালীর প্রসব ব্যথা উঠলে একজন দালালের মাধ্যমে রূপসী বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তারা সিজার অপারেশন না করে ওষুধ খাওয়ান। ওষুধ খাওয়ার পরে শেফালীর ব্যথা বেড়ে গেলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর খোজ খবর নিয়েও উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় শনিবার সকালে মারা যায় শেফালী। ভুল চিকিৎসা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শেফালীর মৃত্যু হয়েছে দাবি করলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা পালিয়ে যায়।
নিহতের বাবা বাহাজ উদ্দিন জানান, তিন দিন আগে সিজার করার জন্য শেফালীকে রূপসী বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু জ্বর ও শ্বাস কষ্ট থাকায় সিজারের তারিখ পেছানো হয়। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শেফালীল অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। একাধিকবার হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নেই, তাই তাদের কিছু করার নাই। একপর্যায়ে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেয়ার জন্য উদ্যোগ নিলে তাতেও বাঁধা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভারে অধিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অপ্রতুল হওয়ায় যত্রতত্র বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। এসব হাসপাতালে দক্ষ চিকিৎসক কিংবা প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে তোলা এসব হাসপাতালে এক শ্রেণির দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীদের নিয়ে আসা হয়। পরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান না করেই রোগীদের গলা কেটে বিল নেয়া হয়। এছাড়া অধিক মুনাফার লোভে প্রয়োজনীয় দক্ষ চিকিৎসক ছাড়া হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সেবা প্রদান করায় মাঝে মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে রোগীর মৃত্যু ঘটছে। তাই অবিলম্বে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সাভার মডেল থানার ওসি মহসীনুল কাদির বলেন, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় রোগীর স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/কেকে
