চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৯

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৭:৩৮
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন আহত হয়েছে। আবাসিক হলের একাধিক কক্ষ ভাংচুরের খবর পাওয়া গেছে। আহত তিন জনকে গুরুতর অবস্থায় চমেকে পাঠানো হয়েছে।
 
জানা গেছে সংঘর্ষে জড়ানো সিএফসি এবং বিজয় গ্রুপ দুটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও যুগ্ন সম্পাদক আবু সাঈদ। তারা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। ক্যাম্পাসে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
 
আহতরা হলেন, ইতিহাস বিভাগের আপন ইসলাম মেঘ, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সাহাদাপ হোসেন প্রদীপ, আইন বিভাগের সাইমুন হক এবং স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের রিংকু দাশ। তারা রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সাইমুম ইসলাম, আরবি বিভাগের মো. জোবায়ের আহম্মেদ, ইতিহাস বিভাগের ইমাম হোসেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের আজিজুল হক মামুন এবং একই বিভাগের এনামুল হক। তারা আবু সাঈদের অনুসারী।
 
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সকাল ১০ টার দিকে সিএফসি গ্রুপের কিছু জুনিয়র বিজয় গ্রুপের ইমাম হোসেনকে তার শ্রেণীকক্ষে মারধর করে। বিষয়টি সিনিয়ররা সমাধান করতে গেলে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা রিংকু দাশ নামে সিএফসি গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করে। পরবর্তীতে এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ১টার দিকে সিএফসি গ্রুপের নেতা কর্মীরা এ এফ রহমান হলের বিজয় গ্রুপের নেতা কর্মীদের ওপর হামলা করে। এ সময় ছাদের ওপর থেকে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন  ইটের আঘাতে আহত হয়।
 
সিএফসি গ্রুপের নেতা কর্মীরা এ হলের ভেতরে থাকা বিজয় গ্রুপের কয়েজনকে গলায় চাকু ধরে মারধর করে বলে জানা গেছে। এ সময় তারা এ এফ রহমান হলের বেশ কয়েকটি কক্ষও ভাংচুর করে।
 
এ বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটা চক্র বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরপর তিন দিন তারা আমার জুনিয়রদের ওপর হামলা করে আসছে। তবে আমার জুনিয়ররা প্রতিহত করায় তারা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে গেছে। 
 
ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার বিষয় প্রত্যাখান করে বিজয় গ্রুপের নেতা আবু সাঈদ বলেন, ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে কোথায় যাবো? মেডিকেলে খোঁজ নিয়ে দেখেন দুই গ্রুরের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছে। জুনিয়রদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে আমরা সিনিয়ররা বসে সেটা সমাধান করে নিবো।
 
চবি মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, আহতদের মধ্যে তিনজনের আবস্থা গুরুতর। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হালকা ইট পাটকেল লেগেছে। তবে সেটা আশাংকাজনক নয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু