কে রুখিবে তাহাদের?

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৬

সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুমিছিলের শেষ নাই। এই দুর্ঘটনা কতখানি লাগামহীন হইতে পারে, বাসচালকেরা কতটা বেপরোয়া হইতে পারেন—তাহার নিদর্শন আজকাল ঘনঘন মিলিতেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার এমন একটি ঘটনা ঘটিয়াছে সাভারের আশুলিয়ায়। ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের একটি স্টাফ মিনিবাস নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকা বেপরোয়া গতিতে অতিক্রমের সময় বাসটিকে থামিবার সংকেত দেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেন। কিন্তু বাসটি সেই সংকেত অমান্য করিয়া বেপরোয়া গতিতেই চলিতে থাকে। তত্ক্ষণাত্ মোটরসাইকেলযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তাও বাসটির পিছু নেন। পরে পলাশবাড়ি এলাকায় পৌঁছাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বাসটি থামাইবার জন্য তাহার মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের উপর বাসটির সম্মুখে দাঁড় করাইলে বেপরোয়া বাসচালক মোটরসাইকেলসহ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দেয়। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি দুর্ঘটনাস্থল হইতে জব্দ করা বাসটি থানায় লইয়া যাইবার সময় রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা সড়কের নিকট জব্দকৃত বাসটির চালক চাপা দেয় পুলিশ কর্মকর্তা উত্তম কুমারকে। চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ফয়স লেকে ইউএসটিসির সামনে একটি বাসের চাপায় নিহত হন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ। কিছুদিন আগে ফেনীতে দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় নিহত হন ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তব্যরত সদস্য। কর্তব্যপালনের সময় বাস চাপায় ট্রাফিক পুলিশের নিহতের এই ধরনের অনেক উদাহরণ দেওয়া যাইবে।

বলিবার অপেক্ষা রাখে না, পুলিশ সদস্যগণ দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখিতে নিজেদের জীবনের উপর ঝুঁকি লইয়া সার্বক্ষণিকভাবে সেবার কাজে নিয়োজিত থাকেন। যদিও বিশৃঙ্খল সড়কের জন্য পুলিশের ব্যর্থতার দিকে অঙ্গুলি তোলেন অনেকে। তবে ইহা সত্য যে, নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের পুলিশ বাহিনীর প্রশংসার পাল্লাই ভারী নিঃসন্দেহে। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ পুলিশের অর্জন ও ঐতিহ্য গর্ব করিবার মতোই। তাহা ছাড়া বিড়ম্বনার শেষ নাই ট্রাফিক পুলিশের। প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট— যেকোনো দুর্যোগের ভিতরেও দায়িত্ব পালন করিয়া যাইতে হয় তাহাদের। এক অর্থে জীবন ঘষিয়া ক্ষয় করিয়া ট্রাফিক পুলিশ যেইভাবে কর্তব্যপালন করিয়া থাকেন, তাহা মুদ্রার অপর পিঠ বটে। তাহা ছাড়া যত সমালোচনা কিংবা সীমাবদ্ধতাই থাকুক না কেন—বিপদে-আপদে জনগণ পুলিশের নিকটই ছুটিয়া যায়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাইতে হইলে কী করিতে হইবে—তাহা লইয়া আন্দোলন ও গবেষণাও কম হয় নাই। তবে ইহার ভিতরেই রাজীব, ফুয়াদ, মাসুদ, শাহরিয়ারের মতো শত শত মানুষের রক্তে ভাসিয়াছে রাজপথ। পৃথিবীর আর কোনো দেশে নিত্য সড়ক দুর্ঘটনায় এত বিপুল সংখ্যক তাজাপ্রাণের অপচয় হয় না। একজন পুলিশ কর্মকর্তা ইতিপূর্বে জানাইয়াছেন যে, প্রতিদিন শুধু বাসের বিরুদ্ধেই গড়ে চার শতাধিক মামলা হইতেছে। লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানাও আদায় করা হইতেছে। কিন্তু তাহার পরও বেপরোয়া বাসচালকদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাইতেছে না। তাহারা কতখানি বেপরোয়া—বিভিন্ন সময় পুলিশের উপর গাড়ি তুলিয়া দেওয়ার ঘটনা দ্বারা তাহা বহুলাংশে বোঝা যায়। কে রুখিবে এই সকল বেপরোয়া বাসচালকদের? তাহাদের এই বেপরোয়া মানসিকতার লাগাম টানিবে কে?