নিজ বুদ্ধিমত্তায় অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পেল শিশু

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১২:৪৯
নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ। নিজ বুদ্ধিমত্তায় অপহরণকারীর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে সে। ঘটনাস্থল থেকে শনিবার দুপুর ২টার দিকে তার বাবা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। 
 
ঘটনার পর নাঈমের বাবা নওগাঁ শহরের চকএনায়েত মহল্লার রফিকের ছেলে ইজিবাইক চালক পচাসহ (৩৫) অজ্ঞাত আরো চারজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ নওগাঁ শহরের চকমুক্তার মহল্লার বউ বাজার এলাকার নাজমুল হুদার ছেলে।
 
 
নাঈমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে শহরের দয়ালের মোড়ে ইজিবাইকের জন্য অপেক্ষা করছিল নাঈম। এসময় একটি ইজিবাইক খালি পেয়ে সেখানে উঠে সে। পথিমধ্যে শহরের রুবীর মোড়ে আরো ৩-৪ জন যাত্রী উঠে। এরপর যাত্রী বেশে অপহরণকারীর সদস্যরা রুমাল দিয়ে নাঈমের নাক চেপে ধরলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। নাঈমের জ্ঞান ফেরার পর দেখে সে বগুড়া জেলার সান্তাহার রেল স্টেশনে। তবে ইজিবাইকে যারা ছিল তারা আর কেউ নেই।
 
সান্তাহারে নাঈমকে দেখে তার এক প্রতিবেশী আশিক (বেসরকারি কোম্পানির এসআর) তাকে বলে কোথায় যাবে। তখন উত্তরে নাঈম বলে,  ‘খালার বাড়িতে বেড়াতে যাব’। এ কথা  শুনে আশিক চলে যান।  বেড়াতে যাওয়ার কথাটি অপহরণকারীরা নাঈমকে শিখিয়ে দিয়েছিল। 
 
এরপর নাঈমের তৃষ্ণা পেলে পানি খেতে চাই। এসময় অপহরণকারীর এক সদস্য পানি নিতে যায়। আরো দুই সদস্য মোবাইলে কথা বলায় ব্যস্ত ছিল। এ সুযোগে নাঈম তাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসে ফলের দোকানীকে তার বাবার কাছে ফোন দিতে বলে এবং দোকানীকে বলে ওই লোকগুলো তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় অপহরণকারীরা সটকে পড়ে। ফলের দোকানী তাৎক্ষনিক নাঈমের বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দেন তার ছেলে এখন দোকানে আছে। অপহরণকারীরা তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় পালিয়ে এসেছে। এরপর দুপুর ২টার দিকে নাঈমের বাবা নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
 
নাঈমের বাবা নাজমুল হুদা বলেন, প্রতিদিনের মতো ছেলে স্কুলে যায় এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ করে এক দোকানী ফোন করে বলেন আপনার ছেলে এখন আমার কাছে আছে। এসে নিয়ে যান। ওই ফোন যদি না পেতাম তাহলে স্কুল ছুটির পর ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করতে হতো।
 
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই বলেন, ঘটনার পর শনিবার বিকেল ৬টার দিকে ছেলের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরএইচ/জেডএইচ