ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাঁ হাতে পাওয়া ইনজুরির কারণে তিন সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হবে নাজমুল ইসলাম অপুকে। বাঁহাতি এই স্পিনারের হাতে ২৫টি সেলাই পড়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে এশিয়া কাপের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন অপু।
গত সোমবার ফ্লোরিডার লডারহিলে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলিং করছিলেন অপু। তৃতীয় বলে স্যামুয়েলস সোজা ব্যাটে সজোরে খেলেছিলেন। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ধরতে গিয়ে সফলও হয়েছিলেন অপু। কিন্তু নন স্ট্রাইকে থাকা চ্যাডউইক ওয়ালটন রানের জন্য কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। পরে ওয়ালটন পেছনে পা ফেলতেই তা অপুর বাঁ হাতের উপর পড়ে। ততক্ষণে ওয়ালটনের বুটের স্পাইকে ক্ষতবিক্ষত হয় অপুর হাত। সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত পড়া শুরু হয়েছিল। পরে তোয়ালে দিয়ে হাত ঢেকে মাঠ ত্যাগ করেন তিনি।
অপুর ইনজুরির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে গতকাল বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নাজমুল ইসলাম অপুর বোলিং হাতে ক্ষত হয়েছে। ব্যাটসম্যানের পায়ের নিচে চাপ পড়ে হাতের উল্টো পিঠে প্রায় চার জায়গায় ক্ষত হয়ে যায়।
এক্সরের মাধ্যমে দেখা গেছে তার হাঁড়ে কোনো ইনজুরি হয়নি। শুধু সফট টিস্যু ইনজুরি। আপাতত সেলাই করা হয়েছে। বেশ কিছু সেলাই করতে হয়েছে ইনজুরিটাকে ম্যানেজ করার জন্য। এর মধ্যে তিনটা ক্ষত খুব একটা সমস্যা করবে না। একটা ক্ষত যেহেতু জয়েন্টের ওপরে, সেটা সারতে একটু সময় লাগতে পারে।’
২৫টি সেলাই লেগেছে অপুর হাতে। বিসিবির এই শল্যবিদ বলেছেন, ‘ওর চারটা জায়গায় প্রতিটাতেই চার-পাঁচটা করে সেলাই লেগেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৪-২৫টার মত লেগেছে। আপাতত দুই থেকে তিন সপ্তাহের বিশ্রাম নেয়ার পর আমরা সেলাই কাটবো। এরপর বুঝা যাবে কতোটা সময় লাগতে পারে। আপাতত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মত বিশ্রামে থাকতে হবে।’
সীমিত ওভারের ফরম্যাটে সাকিবের পাশাপাশি দ্বিতীয় বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে খেলছেন অপু। আপাতত তিন সপ্তাহের আগে খেলায় ফেরা হচ্ছে না তার। তবে চিকিৎসকরা আশাবাদী এশিয়া কাপে খেলতে পারবেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
এদিকে বাঁ হাতের কনিষ্ঠার ব্যথা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রে ইনজেকশন নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে তার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তটা দেশে ফেরার পরই হবে। গতকাল দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘আপাতত এই ইনজেকশনের পর ব্যথা অনেকটাই কমে এসেছে। ফিরে আসার পর এশিয়া কাপের অনুশীলন যখন শুরু হবে, তখন যদি সে মানিয়ে নিতে পারে তাহলে হয়তো এভাবেই আমরা চালিয়ে যাবো। আর অনুশীলনের সময় যদি ওর সমস্যা বেড়ে যায় তাহলে হয়তো আমাদের চিন্তা করতে হবে, ওর পরবর্তী ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে।’
ইত্তেফাক/কেআই
