তরুণ প্রজন্মের দায়বদ্ধতা

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩১

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, বিষয়টা যতটা ভয়াবহ ততটা উদ্বেগের। একটি দেশের ভবিষ্যত্ নির্ভর করে সে দেশের যুবসমাজের উপর, আর সে যুবসমাজ যদি নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায় তবে বুঝতে হবে সে দেশের সিস্টেমে কিছুটা গলদ আছে। আত্মহত্যা কোনো সমাধানের পথ হতে পারে না। আত্মহত্যা মানে নিজেকে নিজে ধ্বংস করা, সাময়িক কষ্ট থেকে নিজেকে চিরতরে মুক্তি দেওয়া। বর্তমানে আমাদের যুবসমাজের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আর এর পিছনে মূল কারণ হলো হতাশা। আমাদের যুবসমাজের শতকরা আশিভাগ তরুণ-তরুণী তাদের বর্তমান জীবন নিয়ে হতাশ থাকে। এর দরুন তাদের জ্ঞান, বুদ্ধি ও উপলব্ধি অনুধাবন করার শক্তি লোপ পায় ও সে নিজেকে চরম অসহায় ও ভরসাহীন ভাবে। নানা সমস্যায় পড়ে মানুষ এ আত্মহত্যার নিন্দিত পথ বেছে নেয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অভিভাবক তথা পিতামাতা ও ছেলেমেয়েদের মধ্যকার অভিমানজনিত আত্মহত্যা, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার দরুন শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা, প্রেম বা ভালোবাসায় ব্যর্থ ও প্রতারিত কিংবা মিথ্যা ফাঁদের বেড়াজালে পড়া তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যা, ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা শেয়ারবাজারে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় আত্মহত্যা, কিংবা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার অভিপ্রায়ে আত্মহত্যা।

আত্মহত্যা কোন সমাধানের পথ হতে পারে না বরং এটি একটি ব্যাধি, মানুষের জীবনে দুঃখ, দুর্দশা ও ব্যর্থতা থাকবেই, এর থেকে উত্তরণের পথ আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে, সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন হতে হবে ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করতে হবে। ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যাকারীর প্রতি তিরস্কার করা হয়েছে এবং প্রায় সব ধর্মেই আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। সরকারি ও বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উচিত হবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার কুফল ও এর থেকে প্রতিকারের উপায় নিরুপণ করা। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমাজে মানুষের প্রতি মানুষের যে দায়বদ্ধতা তা যদি যথাযথভাবে পালন করা যায়, তাহলে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার প্রবণতা কিছুটা হলেও দূর করা সম্ভব হবে। 

n লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়