পাইকগাছার সকল পরীক্ষা কেন্দ্রে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। চলতি বছরে উপজেলা সদরের কিছু কিছু কলেজে ফলাফল বিপর্যয়ের পর এসব কলেজ কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। গত মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পথ আটকিয়ে কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি করে পাইকগাছা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সোমবার উপজেলা সদরের দুটি কলেজের শিক্ষকদের অর্ন্তদ্বন্দ্ব নিরসন করে পরীক্ষা কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানায় ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, বরাবর বিভিন্ন পরীক্ষায় উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার কেন্দ্রগুলো ভাল ফলাফল করে থাকে। এবারও যার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলা সদরের কোন কোন কলেজে ফলাফল বিপর্যয় দেখা দেয়। পাশের হার কমে আসে ৩০ শতাংশের নিচে। অপরদিকে প্রত্যন্ত এলাকার কোন কোন কলেজে পাশের হার ৮০ শতাংশের ওপর দেখা যায়।
অনেকের অভিযোগ ওই সব এলাকার কেন্দ্র, ভ্যেনু-কেন্দ্র একই স্থানে হওয়ায় এবং একই এলাকার শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করায় পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীরা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পায়। ফলে ওই সকল কেন্দ্রে ফলাফল খুব-বেশি ভাল হয়। পাশাপাশি উপজেলা সদরের দুটি কলেজের শিক্ষকদের অর্ন্তদ্বন্দ্বের কারণে পরীক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এতে পরীক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পরীক্ষা দিতে পারে না। যার প্রভাব পড়ে ফলাফলের ওপর। এ ধরণের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন চাঁপা ক্ষোভ চলে আসছে। যা এবারের ফলাফল বিপর্যয়ের পর অভিযোগটি প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। পাইকগাছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল বলেন, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ মানসিক চাপ সৃষ্টির কারণে তারা স্বাভাবিক পরীক্ষা দিতে পারে না। যার প্রভাব পড়ে পরীক্ষা ফলাফলের ওপর। তবে আমি মনে করি দুই কলেজের মধ্যে কোন রেষারেষি নাই। তবে কিছু শিক্ষকদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব থাকতে পারে। এ পর্যন্ত আমাদের কলেজের কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন পরীক্ষার্থী কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান কোন অভিযোগ তুলতে পারেনি।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র পরিবর্তনসহ পরীক্ষা কেন্দ্রের যে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি তুলেছে একটি সুন্দর পরীক্ষার জন্য সে বিষয়টি ভেবে দেখা উচিৎ বলে অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল মনে করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
