ভারতের উত্তর ও মধ্য কেরালায় গত ৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া প্রচণ্ড বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত বন্যায় ২৯ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫ জনের ভূমিধ্বসে মৃত্যু হয়েছে। আর পানিতে ডুবে মারা যায় চার জন। রাজ্য সরকার এ পরিস্থিতিতে শনিবার থেকে চতুর্থ পর্যায়ের জরুরি অবস্থা জারি করেছে। খবর এনডিটিভি ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
খবরে বলা হয়, এরই মধ্যে বন্যায় আটকা পড়া ৫৪ পর্যটককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। যাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের ২০ জন পর্যটক রয়েছে। ইডুক্কির মুন্নারে জনপ্রিয় অবকাশ কেন্দ্র হিলস স্টেশন থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এদিকে রাজ্যের প্রায় ৪০টি নদীর পানি অদ্ভুতভাবে বিপদ সীমার উপরে অবস্থান করছে বলে এক সরকারি কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়। ইতিমধ্যে বন্যায় জলাধার ও নদীগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পানির তীব্রতায় সরে গেছে সড়কগুলো। এ ছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে।
এর মাঝে ইডুক্কি বাঁধের পাঁচটি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ২৬ বছর পর এ বাঁধের গেট খোলা হলো। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিভিন্ন উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে পাঁচশ ত্রাণ শিবির স্থাপন করা হয়েছে।
কেরালার উত্তরাঞ্চলে সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর পাঁচটি দলকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা অস্থায়ী সেতু নির্মাণের পাশাপাশি আটকা পড়া মানুষ উদ্ধারে কাজ করছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলের কমান্ডকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পেরিয়ার নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে কোচিতে ওয়েলিংপন দ্বীপের কিছু অংশ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যেতে পারে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের কেরালায় ভ্রমণ না করতে পরামর্শ দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেজে আলপোনস শুক্রবার বলেছেন, ৫০ বছরের মধ্যে এটি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবেচেয়ে দীর্ঘ।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পীররায়েই উইজিয়ান শনিবার বলেছেন, বন্যায় এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ পানি সরেছে তার থেকেও তিনগুণ বেশি পরিমাণ পানি সরতে হবে। এ দিকে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ইত্তেফাক/ জেআর
