যাত্রী দুর্ভোগ লাগবে পাটুরিয়া প্রশাসনের নানামুখী উদ্যোগ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৯
আসন্ন ঈদুল আযহায় পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া পরিবহন যাত্রীসাধারণের সুবিদার্থে স্থানীয় প্রশাসন নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ইতোমধ্যে পুরো ঘাট এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে ৫শতাধিক পুলিশ, র‌্যাব, আমর্ডপুলিশ, আনসার বাহিনী।
 
জানা গেছে, যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করার জন্য পাটুরিয়া রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে ৩৩টি লঞ্চসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্পিডবোটযোগে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীবাহী পরিবহনের চাপে রবিবার থেকে ঈদ পরবর্তী ৩দিন এ রুটে ফেরিতে পণ্যবাহী ট্রাকসহ ভারি যানবাহন পারাপার বন্ধ থাকবে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ও যাত্রী নিরাপত্তায় স্পর্শকাতর পয়েন্টে ৫শতাধিক পুলিশ, আনসার, র‌্যাব-আর্মড পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লঞ্চ-স্পিডবোট এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রীবহন ও ভাড়া আদায় রোধে ভ্রামমাণ আদালতের একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
 
শনিবার দুপুরে পাটুরিয়া ফেরি ঘাট ঘুরে ও ঘাট কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখী যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য এ রটে বহরের ছোট-বড় ২০টি ফেরি সচল রয়েছে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে আগামীকালের মধ্যে আরোও একটি বড় ফেরি এ বহরে যোগ হবে। কোন রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সহসাই যাত্রা নির্বিঘ্ন হবে বলে ঘাট সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে, শঙ্কা প্রকাশও করেছেন অনেকে। তাদের মতে এ বহরের নিয়োজিত অধিকাংশ ফেরি দীর্ঘ দিনের পুরাতন হওয়ায় ইঞ্জিন ও ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। পদ্মায় প্রবল স্রোত ও বাতাসে সৃষ্ট ঢেউ এড়িয়ে এগুলো চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে মহাবিপর্যয় দেখা দেবে।
 
বিআইডব্লিউটিসির ফেরি মেরামতের জন্য পাটুরিয়াস্থ ভাসমান কারখানা ‘মধুমতির প্রকৌশলী এনামূল হক অপু বহরের ফেরিগুলোর দুরবস্থার কথা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানান- ঈদের চাপ সামাল দিতে ফেরিগুলো নিরলস চলাচল করবে। কোন প্রকার যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক তা মেরামত করা হবে। এ কারণে কারখানার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঈদ ছুটি কর্তৃপক্ষ বাতিল ঘোষণা করেছেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি