খেলাপি ঋণ নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৮

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

এবার খেলাপি ঋণ নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ কমে যাবে। আর ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা খেলাপি হওয়া থেকে বাড়তি সময় পাবেন।

গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে খেলাপি ঋণ ও অবলোপনের এ নীতিমালা জারি করা হয়েছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক একেএম আমজাদ হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুন মাসের ৩০ তারিখ থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হবে।

বর্তমানে কোনো ঋণের কিস্তি তিন মাস অনাদায়ী হলে সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ছয় মাস অনাদায়ী হলে সন্দেহজনক এবং ৯ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মন্দমানে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করা হয়। নতুন নীতিমালায় খেলাপি ঋণ হিসাবায়নের এ তিনটি ক্ষেত্রেই সময় বেড়েছে বলে নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ধরনের চলতি ঋণ, ডিমান্ড ঋণ, ফিক্সড টার্ম লোন অথবা যেকোনো ঋণের কিস্তি তিন মাসের বেশি, কিন্তু ৯ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণ হিসেবে হিসাবায়ন করা হবে।

৯ মাসের বেশি কিন্তু ১২ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা ডাউটফুল লোন বা সন্দেহজনক ঋণ হবে।

আর ১২ মাসের বেশি অনাদায়ী ঋণ ব্যাড/লস বা মন্দ ঋণ হবে।তবে প্রজ্ঞাপনে সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের একটা অংশ খেলাপি ঋণ হিসেবে দেখাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণ খেলাপি ঋণ হিসেবে গণ্য করা হতো না।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপি ঋণ বাড়লে, আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে একদিকে ঋণ খেলাপিরা বাড়তি সুবিধা পাবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলো প্রভিশন রাখতে বাড়তি সময় পাবে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপিঋণ কমিয়ে আনার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অবলোপনে (রাইট অফ) ছাড় দেওয়ার গাইড লাইন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, ৩ বছর হলেই মন্দমানের (কু-ঋণ) খেলাপিঋণ অবলোপন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আগে ৫ বছর না হলে খেলাপিঋণ অবলোপন করা যেত না। এছাড়া আগে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপিঋণ মামলা ছাড়াই অবলোপন করার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের বছর অর্থাত্ ২০১৭ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক বছরে খেলাপি ঋণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।