সফল আয়ারল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। রবিবার সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আইরিশদের বিরুদ্ধে ড্র (২-২) করেছিল মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ‘এ’ দল। পরে সৌম্য সরকারের অধিনায়কত্বে টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সবমিলিয়ে আয়ারল্যান্ড সফরে দলীয় ও ব্যক্তিগত অর্জনে খুশি ক্রিকেটাররা। ফর্মহীনতায় ভোগা সৌম্য রানের দেখা পেয়েছেন এই সফরে। হয়েছেন টি- টোয়েন্টি সিরিজের সেরা খেলোয়াড়। দুই ফরম্যাটেই ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। মুমিনুল, ফজলে মাহমুদ রাব্বিরা রান পেয়েছেন। বোলিংয়ে তরুণ খালেদ আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও সাইফউদ্দিনরা সাফল্য পেয়েছেন।
সফরটা ভালো হওয়ায় খুশি সৌম্য। বিমানবন্দরে তিনি বলেছেন, ‘আগেরগুলোর চেয়ে তো এটা ভালো। একটু হলেও তো ভালো লাগতেছে। একটু ভিন্ন আবহাওয়ায় খেলা ছিল। মোটামুটি সবকিছু মিলে ভালো গেছে।’
মিঠুন বলছেন ওয়ানডে সিরিজটাও জেতা উচিত ছিল বাংলাদেশের। তিনি বলেছেন, ‘সাফল্য বলতে খুব খারাপ হয়নি, তবে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। কারণ আমরা হয়তো ওয়ানডে সিরিজটি জেতা উচিত ছিল। তবে ওদের দলটি অনেক ভালো ছিল। অনেকেই জাতীয় দলের ছিল, অভিজ্ঞ ছিল। এরপরেও আমার মনে হয় সবমিলিয়ে ভালোই হয়েছে।’
তিন ম্যাচে একটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ১১৫ রান করেছেন সৌম্য। নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যাটের রানটা পেয়েছেন তিনি নিজের মতো খেলেই। তিনি বলেন, ‘নিজের কাছে ভালো লাগছে, এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। নিজে যেভাবে খেলতে চাই আমি সেভাবেই ওখানে খেলেছি। একটু সন্তুষ্টি আছে যে, তিন ম্যাচের মধ্যে একটা টার্গেট ছিল, সেটা কিছুটা পূরণ হয়েছে। হয়তোবা হাফ সেঞ্চুরিটা আরও বড় করতে পারলে হয়তোবা ভালো হতো। শেষের দিন যেটা ৪৭ করলাম, সেটা যদি আমি শেষ করে ম্যাচটা জেতাতে পারতাম তাহলে আরও ভালো লাগতো নিজের কাছে।’
প্রথমবার ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সিরিজ জিতেছেন অধিনায়ক সৌম্য। বাড়তি দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘একটু ভিন্নতা ছিল। এতদিন হয়তো ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা, ফিল্ডিংয়ের সময় ফিল্ডিং, বোলিং নিয়ে চিন্তা করেছি। এখন কিছু দায়িত্ব ছিল। কিছু হিসেব নিকেশ। ব্যাটিংয়ে গেলেও কিছু হিসেব। আর আমারও প্রথমবার ছিল। একটু উদ্দীপ্ত ছিলাম। সবমিলিয়ে ভালো ছিল।’
ওয়ানডে সিরিজে ৮৭, ৭৩ রানের দুটি ইনিংস খেলেছেন মিঠুন। পরে শেষ টি- টোয়েন্টি ম্যাচে বিস্ফোরক ব্যাটিং করেছেন। তার ৩৯ বলে ৮০ রানের ইনিংসেই ম্যাচটি জিতেছিল বাংলাদেশ। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে সন্তুষ্ট মিঠুন।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লেগেছে যে আমার অবদানে একটি ম্যাচ জিততে পেরেছি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ ছিল, সুতরাং আমাদের জেতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ ওদের বিপক্ষে হারাটা আসলেই খারাপ হতো। তবে আমাদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল। আর ওপরের সারির ব্যাটসম্যানদের রান করতে হবে, আমাদের পরিকল্পনাতে এমনটাই ছিল। আমি সেভাবেই চেষ্টা করেছি।’
নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিয়ে ডানহাতি এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বলেছেন, দলের দেওয়া দায়িত্ব পালনেই এমন ব্যাটিং করতে হয়েছে। মিঠুন বলেন, ‘দলের প্রয়োজন বুঝে যা করার করতে হবে। আমরা যখন যা করি তখন দলের প্রয়োজনেই করি। অ্যাটাক বলেন, ডিফেন্ড বলেন সবই দলের জন্য। দলের প্রয়োজনে অবশ্যই সেভাবে মানিয়ে নিতে হবে।’
ইত্তেফাক/কেআই
