স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে কানাডায়। গত ১৯ আগস্ট রবিবার এ উপলক্ষে অন্টারিও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মানববন্ধন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর উপস্থিতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ৩০০০ ড্যানফোর্থ এভিনিউ এলাকায় সুশৃংখলভাবে মানববন্ধন পালিত হয়। এ সময় ব্যানার ও পোস্টারে বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ওঠে।
মানববন্ধন শেষে সন্ধ্যা ৮টায় স্থানীয় মিজান কমপ্লেক্সে অন্টারিও আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলী খান ও আব্দুল হাই সুমনের সঞ্চালনে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মোজাম্মেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল আউয়াল, ফারুক হোসেন খান, এডভোকেট সালাম শরিফ, প্রফেসার আজিজুল হক, কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আমিন মিয়া, উদীচীর সাজ্জাদ হোসেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আব্দুস সালাম, মহিউদ্দিন আহমেদ, এস. বি. এম. আব্দুল হামিদ, নওশের আলি, তাজুল ইসলাম, খালেদ শামিম, একরামুল হক খান, দেলোয়ার হোসেন দুলাল, জিয়াউল আহসান চৌধুরী। পবিত্র কোরান তেলাওয়াত শেষে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টে নিহত সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন নিজাম উদ্দিন।
বক্তাদের আলোচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় ফুটে উঠে। জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন ও মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে আপোসহীন নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশকে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বৎসরে গড়ে তুলেছিলেন।
ক্ষুধামু্ক্ত, দারিদ্রমুক্ত শোষণহীন সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন তার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী ঘোষণা করলেন তখনই তাকে হত্যা করা হয়। ৭১ এর পরাজিত শক্তি, তাদের এদেশীয় দোসর ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ষড়যন্ত্রে নেতৃত্বে ছিল মীরজাফরের মানসপুত্র খন্দকার মোস্তাক ও নেপথ্যে জিয়া গংরা। দীর্ঘ ২১ বৎসর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসে পিতৃহত্যার বিচারকার্য শুরু করে দ্বিতীয় মেয়াদে তা সম্পন্নসাপেক্ষে অনেকের দণ্ড কার্যকর করেন। যারা এখনও বিদেশে পালিয়ে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করার প্রচেষ্টাও চলমান আছে।
বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে তখন দলে কিছু নব্য আওয়ামী লীগারদের আগমন ঘটেছে যারা দেশে-বিদেশেও বিদ্যমান।
প্রধান অতিথি ড. মোজাম্মেল খান তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত সৈনিকদের এদের ব্যাপারে সজাগ থাকার পরামর্শও প্রদান করেন। বিশেষ অতিথি ড. আব্দুল আউয়াল শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করার আহবান জানান।
ইত্তেফাক/নূহু
