যুগ যুগ ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাস করেছেন। কিন্তু ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের খুশি অনুভব করতে পারেননি। ঈদুল আজহার দিনে সেনা, পুলিশ ও উগ্রবাদী রাখাইন জনগোষ্ঠীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পশু কোরবানি দিতে হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর রোহিঙ্গারা এই প্রথম ঈদুল আজহা পালন করেছে।
রোহিঙ্গাদের পরিবার পিছু ৫ কেজি করে কোরবানির মাংস বিতরণের কথা থাকলেও দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার মাংস পায়নি। যারা পেয়েছে তাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। যে কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদের আমেজ দেখা যায়নি।
শুক্রবার সকালে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা মাঝির সঙ্গে আলাপ করা হলে তারা এসব কথা বলেন। প্রশাসন বলছে, ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের ১২ হাজার পশু সরবরাহ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা কথা রাখেনি। যে কারণে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ক্যাম্পে বসবাসরত প্রায় ১০ হাজার পরিবার রোহিঙ্গাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই। যে কারণে ক্যাম্পে কোন পশু কোরবানি হয়নি। তাছাড়া এনজিওরা কোরবানির মাংস সরবরাহ না করায় ঈদুল আজহার দিনে কোন রোহিঙ্গার ঘরে মাংস রান্না করা হয়নি।
একই কথা বললেন, কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের মাঝি রশিদ আহমদ। তিনি জানান, তারা ক্যাম্পে ২৭ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে শতাধিক পরিবার মাংস পেয়েছে আধা কেজি করে, বাকিরা মাংস পায়নি। তুমব্রু কোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি দিল মোহাম্মদ জানান, তার ক্যাম্পে ১ হাজার ৬ পরিবার রোহিঙ্গা আছে। কোন এনজিও সংস্থা এসব রোহিঙ্গাদের মাংস দেয়নি। তবে পাড়া প্রতিবেশী মানবিক কারণে কিছু কিছু মাংস সরবরাহ করলেও তা চাহিদা মিটেনি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, এনজিওদের রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য ১২ হাজার গরু সরবরাহ দেওয়া কথা ছিল। কিন্তু ঈদের আগে দিন পর্যন্ত তারা গরু সরবরাহ দিয়েছে ৩ হাজার ৮শতটি। মাঝারি সাইজের গরু দেওয়ার কথা থাকলেও তারা গরু দিয়েছে ছোট সাইজের। যা দিয়ে যৎসামান্য স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মাঝে মাংস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শনিবার পালংখালী ইউনিয়নে যেসব ক্যাম্প রয়েছে ওই সব ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ১০ হাজার ৭’শ প্যাকেট সরবরাহ দেওয়া হবে। প্যাকেটে থাকবে ২ কেজি মাংস, তেল, আদা, রসুন, পেয়াজসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
