নকলের ভিড়ে আসল চেনা দায়

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কী তৈরি হয় না! বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের সকল কসমেটিকস হুবহু নকল তৈরি করা হয়। প্লাস্টিকের বোতল, এর লেবেল, নিরাপত্তামূলক লেবেল, বিএসটিআইয়ের সিল, তৈরির তারিখ ও বিদেশি সিল সবই দেওয়া হয়। এসব দামি ব্র্যান্ডের কসমেটিকস আবার রাজধানীর সব নামকরা দোকান বা শপিং মলের জন্য পাইকারি হিসাবে বিক্রি করা হয়। ওইসব দোকানে দেখানে হয় যে কসমেটিকসগুলো তারা বিদেশ থেকে আমদানি করেছেন। এসব কসমেটিকসের মধ্যে রয়েছে জনসন বেবী লোশন ও পাউডার, কুমারিকা তেল, বার্নল ক্রিম, বেটনোভেট ক্রিম, আমেরিকার তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রঙ ফর্সাকারী ক্রিমসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল কসমেটিকস তৈরির একটি বড় কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার রাতে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে আদালত কেরাণীগঞ্জ থানাধীন বড়িশুর এলাকায় নকল কসমেটিকস তৈরির কারখানায় অভিযান চালান। সেখানে এসব কসমেটিকস তৈরি করে তা প্যাকেট করে রাখা ছিল। কসমেটিকসগুলো প্যাকেট বা বোতল দেখে সেটি নকল বা ভেজাল ধরার কোনো উপায় নেই।

র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এরকম একটি ব্র্যান্ডের আমদানি করা কসমেটিকসের বোতল নকল কসমেটিকসের বোতলগুলোর মধ্যে রেখে দেন। পরে আরেকজনকে দিয়ে শনাক্ত করতে দিলে তিনি ব্যর্থ হন। ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানাটি সিলগালা করে দেন। এই ঘটনায় ওই কারখানার আলাউদ্দিন, সজল, তাজুল ইসলাম, শাওন, শুভ, স্বপন, আরিফ হোসেন জনি, জামালউদ্দিন ও সাব্বিরসহ আটজনকে গ্রেফতার করে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। নকল কসমেটিকস তৈরির অভিযোগে তাদের কাছ থেকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।