সবুজ গাছ আর রঙিন ফুলে ভরা মনোরম উপত্যকা। সৌন্দর্য উপভোগ করতে দলে দলে মানুষ যায়। কিন্তু সেই অঞ্চলেই নারীদের নিয়ে অমানবিক একটি প্রথা চালু রয়েছে। সেটা হচ্ছে- ঋতুস্রাবের সময় গোয়ালঘরে ঘুমাতে হয় নারীদের। ২০১৮ সালে এসেও এমনটি দেখা যায়!
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের হিমাচল প্রদেশে কুলু এলাকার জানা গ্রামের নারীদের মাসিক ঋতুস্রাবের সময় স্বামী, সন্তানদের থেকে আলাদা থাকতে হয়। গোয়ালঘরে দিন-রাত কাটাতে হয় তাকে। গোবরের গন্ধভরা পরিবেশে থাকতে চান না তারা, কিন্তু তাদের এই প্রথা না মেনে চলার উপায় নেই।
জানা গ্রামের বিমলা দেবী। এক সন্তানের মা। তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ঋতুস্রাব হলে প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও তাকে গোয়ালঘরে ঘুমাতে হয়, নয়তো বাইরে খোলা জায়গায়। ওই সময়ে ঘরের ভেতরে যাওয়া যায় না। রান্নাঘরে যাওয়া যায় না, মন্দিরে যাওয়া নিষেধ। ওই সময়টায় তারা কাউকে ছুঁতে পর্যন্ত পারেন না।
এই নারী আরো বলেন, কখনও কখনও ঈশ্বরের কাছে জানতে ইচ্ছা করে, কেন এই অবস্থা হয়?
ওই অঞ্চলের মানুষ বিশ্বাস করে যে, ঋতুস্রাবের সময়ে যদি নারীরা বাড়ির ভেতরে ঢোকেন, তাহলে ঘর অপবিত্র হয়ে যাবে। এতে দেবতা রাগ করবেন। এই বিশ্বাস যে শুধু অশিক্ষিত বা শিক্ষিত মানুষের মধ্যে রয়েছে, তা কিন্তু নয়।
IMG0
কুলু এলাকার একটি গ্রাম
ওই অঞ্চলে বিয়ে হয়েছে প্রীতা দেবীর। তিনি বি এ পাস করেছেন। প্রথমে এই প্রথার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে তার অসুবিধা হয়। কিন্তু রীতি না মেনে উপায় ছিল না।
প্রীতা দেবী বলছিলেন, প্রথমে তো ঠিকমতো ঘুমাতেই পারতাম না। কিন্তু প্রথা তো মেনে চলতেই হবে। নাহলে ভগবান রাগ করবেন।
অমানবিক এই প্রথার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে দুটি অংশ আছে। এক পক্ষ বলছে এই প্রাচীন প্রথা বদলানোর প্রয়োজন আছে। আরেক পক্ষের মত এই প্রথাকে বদলানো দরকার নেই। তারা বলছে, এটা পুরনো রীতি। কেন বদলাতে হবে? ঈশ্বর রাগ করুন, এমন কোনও কাজ করা ঠিক হবে না। ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের বাইরে থাকাটাই শ্রেয়।
হিমাচল প্রদেশ মহিলা কল্যাণ মণ্ডলের প্রধান মধুর বীণা বলেন, এই প্রাচীন প্রথা বদলানোর প্রয়োজন আছে। তবে পরিবর্তন করতে চাইলেও একবারেই সেটা করা কঠিন। সময় লাগবে পরিবর্তন আনতে। এটা পুরুষ প্রধান সমাজ। সচেতনতা তৈরি হলে মেয়েরা নিজেরাই এ নিয়ে চিন্তা করবে।
এদিকে সরকার সচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। ঋতুস্রাবের সময়ে গোয়ালঘরে যাতে নারীদের শুতে না হয়, তার জন্য ওই এলাকায় ‘নারী গরিমা’ নামের একটি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
IMG1
নারীদের সচেতন করার কাজ চলছে
ইত্তেফাক/জেডএইচ
