পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি জমি দখল করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালগোড়া বাজারে একতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, ওই ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ ও অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন পাউবো। কিন্তু এই নির্দেশ উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এক নারী ভবনটি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালগোড়া বাজারের চৌরাস্তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে পাউবোর সরকারি জমি দখল করে স্থানীয় মমতাজ বেগম নামের এক নারী একতলা ভবনের নির্মাণ কাজ চালাচ্ছেন। সে আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না। একাধিকবার পুলিশ বাধা দিলেও তিনি ভবনটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করেননি।
এ ঘটনায় সদর ইউনিয়নের নিজ হাওলা গ্রামের বাসিন্দা মিতা রানী কুন্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২২ নভেম্বর মমতাজ বেগমকে লিখিত চিঠি দিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনার নির্মাণ কাজ বন্ধ ও অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন পাউবো। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনুমতি ব্যতিরেকে অন্যায়ভাবে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগের আওতাধীন মমতাজ বেগম পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। যার পোল্ডার নম্বর-৫২/৫৩ বি, রাঙ্গাবালী মৌজার জেএল নম্বর-১৫০, এসএ খতিয়ান নম্বর-২৬৮, দাগ নম্বর-২২৭ ও ২২৮। যা সরকারি সম্পত্তি জবর দখলের সামিল। এই অবস্থায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধসহ সাতদিনের মধ্যে দখলকৃত জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পাউবোর নির্দেশ উপেক্ষা করে একতলা ওই ভবনটির নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভবনটির অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু পলেস্তরা, দরজা-জানালা ও টিনশেড কিংবা ছাদের কাজ বাকি।
স্থানীয় বাসিন্দা মিতা রানী কুন্ডু বলেন, ‘আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে এক সময় একসনা লিজ (বন্দোবস্ত) নিয়ে ওইখানে দোকান দিয়েছিলাম। মেয়াদ শেষ হওয়ায় লিজের জন্য আবারও আবেদন করেছি। এর মধ্যে কাউকে লিজ না দিলেও মমতাজ সেই সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ করছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আদালতের নির্দেশ না মেনে ভূমিদস্যুদের ছত্রচ্ছায়ায় মমতাজ ভবনটির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
মমতাজ বেগম বলেন, আমি ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিক। নির্মাণ কাজের শেষ পর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি চিঠি পাই। সে চিঠিতে জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি করে তারা কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তাই আমি কাজ বন্ধ রেখেছি।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস জানান, ‘যে জমির ওপর ঘর নির্মাণের কাজ চলছে, সে জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তি। তাই নির্মাণ কাজে অনুমতি কিংবা বন্ধ করা আমাদের আওতাভুক্ত নয়’।
রাঙ্গাবালী থানার ওসি মিলন কৃষ্ণ মিত্র বলেন, ‘খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
