ছোট যমুনা থেকে বালু উত্তোলন

বদলগাছীতে ফসলি জমি ও নির্মাণাধীন সেতু হুমকিতে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৪

বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা

বদলগাছীতে ছোট যমুনা নদী থেকে অবাধে ড্রেজিং দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকিতে পড়েছে ফসলি জমি ও নতুন নির্মাণাধীন সেতু। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির মালিক উপজেলার বেগুনজোয়ার গ্রামের জনাব আলী। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভগবানপুর মৌজায় বেগুনজোয়ার গ্রামের জনাব আলীর প্রায় তিন বিঘা জমির কিছু অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। কিছু অংশ আছে সেটা ফসলি জমি। বালু ব্যবসায়ীরা ইজারা নেয়ার ক্ষমতা দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইচ্ছেমতো সেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু পরিবহন করে চলেছে। বালু উত্তোলন ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে হুমকিতে পড়েছে ফসলি জমি। তা ছাড়া উপজেলার পাড়সোমবাড়ী বাজার খেয়াঘাটে কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট যমুনা নদীর উপর নির্মাণাধীন মুক্তিযোদ্ধা সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকিতে রয়েছে।

বেগুনজোয়ার গ্রামের সানাউল হক, ওয়াজেদ আলী, কৃষক রানা, শরিফুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন বলেন, যেভাবে বালু উত্তোলন করছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নতুন নির্মাণাধীন মুক্তিযোদ্ধা সেতু ও এ এলাকার মাঠের শত শত বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নিষেধ করলেও শুনছে না বালু ব্যবসায়ীরা। তারা সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধী নতুন সেতু ও শত শত বিঘা ফসলি জমি রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বালু ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও শিখর আলী বলেন, মেসার্স তরফদার ট্রেডার্স নামীয় বালু লিজকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী সাঈদ হাসানের কাছ থেকে আমরা পাঁচজন মিলে লিজ নিয়ে বালু উত্তোলন করছি, অন্যায় কিছু করছি না। এ দিকে মেসার্স তরফদার ট্রেডার্সের স্বত্বাধীকারী সাঈদ হাসান বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। এ ব্যাপারে ওই এলাকার কয়েকজন কৃষক ফোন দিয়েছিল। আমি বালু উত্তোলনকারীদের বলে দিয়েছি, কারো ক্ষতি করে বালু উত্তোলন করা যাবে না। নিষেধ করা সত্ত্বেও যদি তারা কারও ক্ষতি করেন এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম আলী বেগ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।