শীত না আসতেই শেরপুরে তত্পর পাখি শিকারিরা!

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৫

শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে চলছে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার। শীত মৌসুমে এখন জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ বন-জঙ্গলে পাখির আগমন ঘটে। এ সুযোগে বিষটোপ, জাঙ্গি, আলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে বা পোষা পাখি দিয়ে বুনো পাখি শিকার করে হাট-বাজারে বিক্রি করে এক শ্রেণির লোক। অপরদিকে এয়ারগান দিয়ে সৌখিন শিকারিরাও এ সময় পাখি নিধন করে। বর্ষার পর থেকে শীত মৌসুম পর্যন্ত বুনো পাখি নিধনের মহোত্সব চলে। দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও থেমে নেই পাখি শিকার।

জেলার কান্দাপাড়া, ধলা, চক আন্ধারিয়া, পাকুরিয়া, দীঘারপাড়, কামারিয়া, সূর্যদী, শেরীর চর, টান কাছার, কামারের চর, কেউটা বিল, ধলি বিল, বয়সা বিল, গোল্লার বন্দ, বালুঘাটা, গাজীর খামার, পাগলার মুখ প্রভৃতি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বিচারে পাখি শিকারের দৃশ্য। পোষা বক, কালিম দিয়ে বুনো বক, বুনো কালিম ধরার দৃশ্য অহরহ চোখে পড়ে। এমনকি সদর উপজেলার পৌর এলাকাতেও পাখি শিকারিরা শিকার করা পাখি বিক্রি করতে আসে। পোষা বক দিয়ে বুনো বক ধরার ব্যাপারে কয়েকজন শিকারি জানান, তারা ধান ক্ষেত বা খাল-বিলের কাছের ঝোপে বৃত্তাকারে চারদিকে বাঁশের কাঠি পুঁতে তার চারদিকে কলাপাতা, নারকেল পাতাসহ বিভিন্ন গাছের পাতা দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে উপরে পোষা বক বা কোড়া পাখি বসিয়ে রাখে। পরে এসব পাখি বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি করে বা নিজেরা খায়। এসব পাখি ৪০ টাকা থেকে দু’তিনশ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায় বলে তারা জানায়।

পাখি শিকার ও বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন ও নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান উভয়ে জানান, বিষয়টি তারা অবগত নন। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় খোঁজ-খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।