ডেটলাইন ২৯ এপ্রিল

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৯

শামছুদ্দীন আহমেদ

সংসদ সদস্য পদ টিকিয়ে রাখতে হলে আগামী ২৯ এপ্রিল সোমবারের মধ্যেই শপথ নিতে হবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জনকে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের নির্ধারিত সময়সীমা ৯০ দিন পূর্ণ হবে ২৯ এপ্রিল। ফলে আগামী ছয়দিনের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে তাদের আসন শূন্য হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে যে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন— বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন অর রশীদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তার ভুঁইয়া।  প্রসঙ্গত, কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ৬৭(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে যদি তাঁহার        নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন। তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পিকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন।’ উল্লেখ্য, একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ৩০ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী ৯০ দিন পূর্ণ হবে ২৯ এপ্রিল।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে আসন শূন্য হবে। তবে কেউ যদি এসময়ের মধ্যে শপথ নিতে না পারার যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করেন,  সেক্ষেত্রে শপথের সময় বৃদ্ধির এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের দুই সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর (মৌলভীবাজার-২) ও মোকাব্বির খান (সিলেট-২) এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের বেশিরভাগও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আগ্রহী। আগ্রহীদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের কাছ থেকে সংসদে যাওয়ার পক্ষে পরামর্শও নিয়েছেন। বিশেষ করে, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুন অর রশীদ ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান শপথ নিতে বেশি আগ্রহী। তারা তাদের আগ্রহের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতাদেরও জানিয়েছেন।

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে যেতে তিনি প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন। এ আলোচনার সঙ্গে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে যোগ দেবেন বলেও গুঞ্জন আছে রাজনৈতিক মহলে। এ অবস্থার মধ্যে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন গত ১৫ এপ্রিল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পুরো ফল প্রত্যাখ্যান করেছি। এ অবস্থায় আমাদের সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। তখন তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্যারোল ও সংসদে যোগদান করা; না করার বিষয়েও কথা বলেন। প্যারোল চাওয়া ও সংসদে যাওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া ইতিবাচক কোনো বার্তা দেননি। বরং এসময় খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি কেন প্যারোল চাইতে যাব, আমার তো এমনিতেই জামিন পাওয়ার কথা। আর এ সংসদে গিয়ে কী হবে! সেখানে গিয়ে আমার মুক্তির কথা বলবে!’