জোবায়েরের স্বীকারোক্তি

আগুন দেওয়ার সময় নুসরাতকে চেপে ধরে মনি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট ও

    ফেনী প্রতিনিধি

নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সহপাঠী কামরুন্নাহার মনি। নুসরাতকে আগুন দেওয়ার সময় তাকে চেপে ধরেন মনি। এর আগে তার সহযোগী শামীম, জাবেদ ও  জোবায়েরের জন্য বোরকা ও হাতমোজা কিনে দেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকালে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলাপকালে এমন কথা বলেন মামলার তদন্তকারী কমকর্তা শাহ আলম। হত্যার ঘটনায় অবৈধ অর্থ লেনদেনের উত্স অনুসন্ধানে সোনাগাজীর বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা পরিদর্শন করেছে পিবিআই। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া জোবায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।  তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সহযোগীদের বোরকার ব্যবস্থাও করে দেয় মনি। নুসরাতের পা বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মনি উম্মে সুলতানা পপিকে শম্পা বলে ডাকে। এই শম্পা নামটি পপি ও মনির দেওয়া। কিলিং মিশনে আর কোনো ছদ্মনাম ব্যবহার হয়নি। মনি সব অপরাধ স্বীকার করে শনিবার আদালতে জবানবন্দিতে এসব বলেছেন।

এদিকে গতকাল দুপরে সোনাগাজী পৌরসভার বাসস্টান্ড সংলগ্ন মনির গ্রামে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, মনি অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর কর্মকর্তা আব্দুল আজিজের মেয়ে। গত বছর তার বিয়ে হয়। মনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নুসরাতকে হত্যার ঘটনায় মনির ওপর ক্ষুব্ধ গ্রামের মানুষ। অপরদিকে নুসরাত হত্যার ঘটনায় গত রবিবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবালের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল সোনাগাজীর বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গিয়ে মামলার আসামিদের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখেছে।

পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, সোনাগাজীতে জনতা, ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক তারা পরিদর্শন করেছেন। জেলা শহরেও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শাখা পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডে অবৈধ লেনদেনের উত্স খুঁজে বের করা হবে। ব্যাংকগুলো থেকে কোনো তথ্য পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এই মুহূর্তে কিছু বলতে রাজি হননি। এ সময় চট্টগ্রাম পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দিন, নোয়াখালী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাসু দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া জোবায়ের গত রবিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া গত শনিবার রাঙ্গামাটি ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার ইফতেখার উদ্দিন ওরফে রানা ও ইমরান হোসেন ওরফে মামুনকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।