চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ ও নরসিংদীতে চার শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুরে ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া শিশুকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করেন এক পল্লি চিকিত্সক। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যুবলীগ নেতার ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে প্রতিবন্ধী এক শিশু। এ ঘটনায় বিচার চাইতে গেলে শিশুটিসহ তার মাকে মারধর করা হয়। এ ব্যাপারে রায়পুর থানায় গতকাল সোমবার রাতে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
যশোর অফিস জানায়, ঝিনাইদহের মহেশপুরে অসুস্থ শিশুকন্যাকে চিকিত্সা দেওয়ার নামে ধর্ষণের অভিযোগে পল্লি চিকিত্সক সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে সেজিয়া বাজারের নাজ ফার্মেসিতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই শিশু ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তাকে গুরুতর অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষক সাইফুল ইসলাম নেপা ইউনিয়নের সেজিয়া গ্রামের খোদাবন্দী পাড়ার নূর মোহাম্মাদের ছেলে।
শিশুটির মা জানান, মেয়েটি কয়েকদিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয় পল্লি চিকিত্সক সাইফুলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিত্সা শুরু হয়; কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় সাইফুলের পরামর্শে তার বাবা রবিবার সকালে শিশুটিকে উপজেলার সেজিয়া বাজারের নাজ ফার্মেসিতে পাঠান। এসময় সাইফুল ইসলাম তার শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন এবং একটি ট্যাবলেট খেতে দেন। এতে শিশুটি জ্ঞান হারালে সাইফুল তাকে ধর্ষণ করেন। পরিবারের লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে; কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পল্লি চিকিত্সক সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিন আলম জানান, আসামি ধর্ষণের ঘটনা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
চুয়াডাঙ্গা:জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের লোকজনের অভিযোগ। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গণি মিয়া জানান, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ওই শিক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে অপহরণ করে একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন শহীদ ও তার সহযোগীরা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত রবিবার বিকালে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী সাখাওয়াত হোসেনকেও আটক করা হয়। অপহরণের পর ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গোপালগঞ্জ: মুকসুদপুর উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি মুকসুদপুর উপজেলার বিশ্বম্ভরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার খানজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক জামাল শেখ (৩৫) পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার মুকসুদপুর থানায় ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
শিবপুর (নরসিংদী): নরসিংদীর শিবপুরে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে ধর্ষক রায়হানের ফাঁসির দাবিতে গতকাল উপজেলার কলেজগেট চত্বরে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। জানা যায়, শনিবার শিবপুর উপজেলার বাহেরদিয়া গ্রামের ওই শিশুটিকে প্রতিবেশী মাদ্রাসা ছাত্র রায়হান ফুসলিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির অভিভাবক শিবপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন। মডেল থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ধর্ষণের বিষয়টি মেডিক্যাল রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। শিশুটি নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতার ধর্ষণের
শিকার প্রতিবন্ধী শিশু অন্তঃসত্ত্বা
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশু (১৪) স্থানীয় যুবলীগ নেতার ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিচার চাইতে গেলে যুবলীগ নেতা শিপন চৌধুরী প্রতিবন্ধী শিশু ও তার মাকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদেরকে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিপন একই এলাকার ৮ নং চরবগা ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও কচিকাঁচা কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত।
জানা গেছে, উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামে একটি পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুকন্যাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে শিপন। এতে শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তার মা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় যে সে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত শনিবার শিপন ও তার পরিবারকে ঘটনাটি জানানো হয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়েটিকে বেদম মারধর করলে মায়ের হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় রাতে থানায় মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। মামলায় শিপনসহ ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
