মাদক মামলায় দশ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাবুদ্দিন বিহারি পলাতক। তার পরিবর্তে কারাভোগ করছেন আরমান নামে এক ব্যক্তি। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। গত তিন বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন। এখন ওই ‘নিরপরাধ’ ব্যক্তির মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে ‘ল এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের’ পক্ষে রবিবার রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী সংগঠনের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব।
‘কারাগারে আরেক জাহালম’—এই শিরোনামে গত ১৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ সালের ৩০ আগস্ট পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪০ পিস ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দুবছর জেল খেটে ২০০৭ সালের ৫ মার্চ জামিন পেয়ে পলাতক হন শাহাবুদ্দিন। ওই মামলায় ২০১২ সালের পহেলা অক্টোবর শাহাবুদ্দিন ও তার দুই সহযোগীর প্রত্যেককে দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। পাশাপাশি পলাতক আসামির বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সকালে শাহাবুদ্দিনের পরিবর্তে আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুধু পিতার নামে মিল থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শাহাবুদ্দিন নামে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। অন্যদিকে, প্রকৃত আসামি শাহাবুদ্দিন বাইরে থেকে দিব্যি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক ও কারা কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে আরমানকে আদালতের সামনে হাজির করা এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে রিটে।
