পরাগায়ন ফল ও বীজ উত্পাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১২

 

ঁবিজ্ঞান

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লা।

প্রিয় জেএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য অধ্যায় ভিত্তিক রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্নোত্তর আলোচনা করছি। আজ চতুর্থ অধ্যায় অর্থাত্ “উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি” থেকে  অনুশীলনীর সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন ও তার উত্তর দেয়া হলো।

ক. প্রজনন কাকে বলে?

খ. পরাগায়ন বলতে কী বোঝায়?

গ. M, N, O, P অংশের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ভিদ অঙ্গটির লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।

ঘ.   M, O, P  এর মধ্যে কোন দুটি অংশ উদ্ভিদের বংশ বিস্তারে অধিক গুরুত্বপূর্ণ? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর: ক. প্রজনন: যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে।

খ. পরাগায়ন: ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। পরাগায়নকে পরাগসংযোগও বলা হয়। পরাগায়ন ফল ও বীজ উত্পাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। পরাগরেণু স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে। যে বাহক পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে।  বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে।

গ. M, N, O, P অংশগুলো হলো একটি ফুলের যথাক্রমে পুংকেশর, বৃতি, পাপড়ি ও স্ত্রীস্তবক। উক্ত চারটি অংশের সমন্বয়ে একটি ফুল গঠিত হয়। নিচে একটি ফুলের লম্বচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র অংকন করা হলো।

 

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত M, O, P  অর্থাত্ পুংকেশর, পাপড়ি ও স্ত্রীস্তবকের মধ্যে পুংকেশর  এবং স্ত্রীস্তবক উদ্ভিদের বংশবিস্তারে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষণ: M হলো পুংকেশর। একটি পুংকেশরের দুটি অংশ থাকে যথা- পুংদণ্ড ও পরাগধানী। এই পরাগধানীর ভেতরে পরাগরেণু উত্পন্ন হয়। আবার পরাগরেণু থেকে পুংজননকোষ উত্পন্ন হয়। এরা সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। আবার P হলো স্ত্রীস্তবক। স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্রের সমন্বয়ে গঠিত। স্ত্রীস্তবকের নিচের স্ফীত অংশকে গর্ভাশয় বলে। এই গর্ভাশয়ে ডিম্বক থাকে। এই ডিম্বকে স্ত্রীজননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।

পরাগায়নের ফলে এই পুং জননকোষ ও স্ত্রীজননকোষের মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রুণ এবং ভ্রুণ থেকে বীজপত্র তৈরি হয়। আর বীজ সৃষ্টি না হলে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি হবে না।

পরিশেষে বলা যায় উদ্দীপকের M ও P অংশ দুটি উদ্ভিদের বংশবিস্তারে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।