নবীনের গল্প

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১৫

এইচএসসি পরীক্ষার পরেই শুরু হয় নিজের স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় ছিনিয়ে আনার যুদ্ধ, নিজের অস্তিত্বকে জানান দেয়ার লড়াই। পছন্দ কিংবা সাধ্য অনুযায়ী কেউ পড়তে চায় মেডিক্যাল কলেজে, কেউ ছোটে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে কেউবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটি শোনার পর আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের বিশ্বব্যাপী চিন্তার দ্বার উন্মোচিত হয়। কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের  মানুষ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের সুযোগ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (৪৮ ব্যাচ) ক্লাস শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা হাজার হাজার নবীনের পদচারণায় মুখর এখন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ। নবীন শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে প্রাণের আরেক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ৭০০ একরের সবুজ ভূমিতে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি আড্ডাস্থলে পুরনোদের পাশাপাশি আলো ছড়াচ্ছেন নবীন মুখগুলো। স্বপ্ন সারথীরা শুরু করেছে তাদের স্বপ্নের বুনন। চারিদিকে শত শত অপরিচিত মুখ আর নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা। চলতে থাকে শিক্ষক, নতুন বন্ধু,  বড় ভাই-আপুদের সাথে পরিচয় পর্ব। চলুন শুনে আসি তেমন কিছু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাপিত স্বল্পকালীন সময়ের অনুভূতির কথা। জানাচ্ছেন— ইমন মাহমুদ

ফারিয়া হোসেন লাবণ্য

ইংরেজি বিভাগ

গ্রামের বাড়ি যশোরের রামপুরা গ্রামে। পড়েছেন আকিজ কলেজিয়েট স্কুল এবং যশোর সরকারি এম এম কলেজে। এসএসসি এবং এইচএসসিতে পেয়েছেন যথাক্রমে  ৫.০০ এবং ৪.৫০। ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনার ব্যাপারে বলেন, ‘অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকদের কাছ থেকে অনেক কিছু নতুন ও প্রয়োজনীয় বিষয় শিখছি।’ তার স্বপ্ন এখন বিভাগে ভালো রেজাল্ট করা এবং বিসিএস দিয়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হওয়া। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নের জন্য কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্বল্পকালীন এই সময়ের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে বলেন, ‘প্রথম প্রথম সবকিছু অদ্ভুত মনে হলেও এমন বন্ধুসুলভ একটা বিশাল পরিবারে এসে যে কেউই নিজেকে কখনো একা ভাববে না। নিজের বাড়ির মতোই হলের পরিবেশে নিজেকে আরো স্বাধীন মনে হতে লাগলো। একসাথে মন খুলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই, একসাথে ঘুম থেকে উঠি, নাস্তা করি, ক্লাস করি, এগুলো ভেবে খুব ভালো লাগে।’

 

তানজীম হাসান

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

এসএসসি এবং এইচএসসি দুটোতেই জিপিএ-৫ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন,                ভর্তিযুদ্ধে নিশ্চিত জয়ী হবেন। হয়েছেও ঠিক তাই, যে বিষয়ে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন, সেটাতেই ভর্তি হয়েছেন। যার দরুণ বিভাগের পড়াশোনা উপভোগও করছেন দারুণভাবে। এরচেয়ে আনন্দের অনুভূতি আর কি বা হতে পারে! বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বল্পকালীন সময়েও খুঁজে চলেছেন বন্ধুত্ব, সম্পর্কের নিবিড়             আশ্রয়।’ প্রথম প্রথম ভয়ে ছিলাম, কি না কি হয়, কোনো ভুল করে ফেললাম কিনা, কিন্তু ভয় কাটতে সময় লাগেনি। এমন বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ পেয়ে আমি দারুণ খুশি।’ তিনি ভবিষ্যতে  বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরে দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।

রিজু আহমেদ

আইন ও বিচার বিভাগ

স্কুলের ক্রিকেট দলের ব্যাটসম্যান ডানপিটে রিজু ভর্তি পরীক্ষার আগে ভালো পড়াশোনা করে অনেককে পিছনে ফেলে জায়গা করে নিয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগে। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার তেঘরী গ্রামে। পড়েছেন তিতুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি কেসি কলেজে। এসএসসি এবং এইচএসসি-তে রেজাল্ট যথাক্রমে জিপিএ ৪.৯৪ এবং ৪.৫৮। একজন আইনের ছাত্র হিসাবে তার লক্ষ্য সুনাগরিক হওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমদিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন ছিল আনন্দ ও ভয় মিশ্রিত এক অনুভূতির দিন। আমার বন্ধুরা কেমন হবে, বড় ভাইয়েরা কেমন হবে, এই প্রশ্ন ও ভয় নিয়ে ঘুরছিলাম।’ কিন্তু দেড়মাস পরে নতুন বন্ধু, বন্ধুসুলভ বড় ভাই পেয়েছেন রিজু। যত দিন যাচ্ছে ক্যাম্পাসের প্রতি তার ভালোবাসা বেড়েই চলেছে। সিনিয়র জুনিয়রের সম্পর্কের চেইনটার কথা ভাবলেই তার অসম্ভব রকমের ভালোলাগা কাজ করে!

 

মো. ওমর ফারুক

নৃবিজ্ঞান বিভাগ

বাড়ি ঢাকার ডেমরাতে। পড়েছেন বামৈল আইডিয়াল হাইস্কুল এবং নটরডেম              কলেজ। এসএসসি-তে জিপিএ-৫ থাকলেও এইচএসসিতে পেয়েছেন ৪.৫৮।  রেজাল্ট খারাপের পর ভর্তি পরীক্ষার সময়ে যে মানসিক সাপোর্টটা দরকার সেটা তিনি পেয়েছিলেন তার বড় ভাইয়ের থেকে। ভবিষ্যতে তিনি  বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পুলিশ ক্যাডার   হতে চান। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি তার কাছে ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত! মনে হচ্ছিল এইতো পরিশ্রমের ফল পেলাম। মনে           মনে খুব আনন্দিত হচ্ছিলাম। আজকের  অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মনে হচ্ছে আবার      কোন যুদ্ধে নেমে পড়েছি! এই যুদ্ধ কারো সাথে নয়, এই যুদ্ধ নিজের সাথে নিজের  স্বপ্নের জন্য!